নরসিংদীতে ফিল্মি স্টাইলে ছিনতাই দুইজন আটক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২৩:০৩
মালয়েশিয়া থেকে দেয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী নরসিংদী রেলস্টেশনে ছিনতাই করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়েছে মুশফিক ও হারুন নামে দুই দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী। আনসারদের হাত থেকে ফিল্মি স্টাইলে তিনতলার ভেন্টিলেটর দিয়ে পালাতে গিয়ে নিচে পড়ে হাড় ভেঙ্গে গেছে ছিনতাইকারী মুশফিকের। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী কালেকটরেট ভবনে এই ঘটনাটি ঘটেছে। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ও পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আহত ছিনতাইকারী মুশফিক নরসিংদী সদর উপজেলার দাসপাড়া গ্রামের সৈয়দ রফিকুল ইসলামের পুত্র এবং ছিতাইকারী হারুন শিবপুর উপজেলার নৌকাঘাটা গ্রামের মফিজ উদ্দিনের পুত্র।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার হেমন্তগঞ্জ গ্রামের তাহের মিয়ার পুত্র কিবরিয়া আলম মালয়েশিয়ায় চাকরি করে। সেই সূত্রে মালয়েশিয়া প্রবাসী শিবপুর উপজেলার সিরাজ মিয়ার পুত্র শরিফের সাথে কিবরিয়ার পরিচয়। কিবরিয়া মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার সময় শরীফ তার হাতে দুটি মোবাইল সেট দিয়ে বলে বাড়ি যাবার পথে মোবাইলে ফোন দিলে তার ভগ্নিপতি এসে রেলস্টেশন থেকে মোবাইলসেট দুটি নিয়ে যাবে। পাশাপাশি শরিফ তার ভগ্নিপতিকে এই মর্মে জানিয়ে দেয় যে, কিবরিয়ার নিকট নগদ টাকা ও স্বর্ণ থাকবে, তাকে পিটিয়ে বা হত্যা করে সেগুলো তার নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য। সরল বিশ্বাসে কিবরিয়া মোবাইলসেট দুটি নিয়ে গত ১৮ আগস্ট দেশে ফিরে ঢাকায় তার এক আত্মীয়ের বাসায় উঠে। গতকাল বৃহস্পতিবার কিবরিয়া ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে বাড়ি ফেরার পথে নরসিংদী রেলস্টেশনে নেমে শরীফের কথামত তার ভগ্নিপতিকে ফোন দেয়। পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা তার ভগ্নিপতি ছিনতাইকারী মুশফিক, হারুনসহ একদল ছিনতাইকারী কিবরিয়াকে ধরে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে। মুশফিক তার গলায় ছুরি ধরে তার নিকট থাকা ৫ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিত, বাংলাদেশি ৫ হাজার টাকা, ৪টি স্বর্ণের বার এবং ৪টি মোবাইলসেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়।