এতিম ভাই-বোনকে দত্তক চান প্রবাসী দম্পতি

মা নেই। বাবাও নেই। মা মরেছেন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। বাবা মরেছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। বাবা-মাকে না দেখার শূন্যতা রয়েছে। কিন্তু তারা বেঁচে নেই এটা বোঝার বয়স হয়নি। সব হারিয়ে তাদের ঠাঁই হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে। শিশু মিম ও আলিফ। সম্পর্কে আপন ভাইবোন। মিমের বয়স চার, আলিফের দুই। তবে গত ২০ দিন পাওয়া যায়নি তাদের কোন বৈধ অভিভাবক। শিশু দু’টির প্রতিপালনের দায়িত্ব নেয়ার জন্য অনেকেই ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাদেরকে দত্তক হিসেবে পেতে চান নিঃসন্তান অনেক দম্পতিই। ইতিমধ্যে আমেরিকা প্রবাসী এক দম্পতি তাদেরকে দত্তক পেতে আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার আদালতে ছিল শুনানির দিন। তবে ওই শুনানি নিষ্পত্তি হয়নি। আদালত নতুন করে শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এদিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে দায়িতরত্ব নারী পুলিশ সদস্যদের যাকেই সামনে দেখছে তাকে ‘আম্মা আম্মা’ বলে সম্বোধন করছে আলিফ। ভিকটিক সাপোর্ট সেন্টারের পরিদর্শক হালিমা খাতুন বলেন, অনেকে তাদের দত্তক হিসেবে পেতে চায়। এরই মধ্যে রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা এ আর এম কফিলউদ্দিন তার আমেরিকা প্রবাসী ছেলের হয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। তার ছেলে ও পুত্রবধূ আমেরিকা প্রবাসী এবং নিঃসন্তান। বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে আদালতে শুনানির দিন ছিল। কিন্তু আদালত থেকে জানানো হয়েছে, যারা দত্তক নিতে চান সেই দম্পতিকে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। দুই ভাইবোনের এতিম হওয়া ঃ মিম ও আলিফের মা নাজমা বেগম পেটে ও বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে গত ২ জুলাই ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সঙ্গে ছিল মিম ও আলিফ। ঠিকানা অজ্ঞাত। এরপর মেডিসিন বিভাগের ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৩২ নম্বর বেডে একমাস ১২ দিন চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত ৪ আগস্ট তিনি মারা যান। কোন আত্মীয়-স্বজন না পাওয়ায় লাশ রাখা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে। পরে লাশ দাফন করা হয় বেওয়ারিশ হিসেবে। অপরদিকে কোন অভিভাবক না পাওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ মিম ও আলিফকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। শাহবাগ থানায় এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর সেখান থেকে পাঠানো হয় তেজগাঁও থানা কমপ্লেক্স কম্পাউন্ডে অবস্থিত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে।