সরাইলে হামলার ভয়ে গ্রাম ছাড়া শতাধিক লোক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রতিপক্ষের হামলা ও সম্ভ্রমহানির ভয়ে মহিলাসহ শতাধিক লোক গত ২৪ দিন ধরে গ্রাম ছাড়া। ঈদুল ফিতর নামাজের পর উপজেলার রানিদিয়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনায় দাউল্ল¬া গোষ্ঠীর সাথে বড় গোষ্ঠী, ভেড়াভেড়ি ও মাটিয়াল গোষ্ঠীর লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকে ওই গোষ্ঠীর লোকজন প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও মারধোর শুরু করে। পরে দাউল্লা গোষ্ঠীর পুরুষরা বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। রাতের বেলায় দাঙ্গাবাজদের তত্পরতা বেড়ে গেলে সম্ভ্রমহানির ভয়ে মহিলারা বাড়ি ছেড়ে অন্য গ্রামে আশ্রয় নেয়। এ সুযোগে গত কয়েক দিনে বড় গোষ্ঠী, ভেড়াভেড়ি, মাইটাল্লা গোষ্ঠীর লোকজন দাউল্লা গোষ্ঠীর আইয়ুব মিয়ার ৫টি, শহিদ মাস্টারের ৩টি, ইউনুছ মিয়ার ৩টি, ফোরকান মিয়ার ২টি, রহমত আলীর ২টি, সালাউদ্দিন মিয়ার ২টি, বিল্লাল মিয়ার ৪টি, সিদ্দিক মিয়ার ৩টি, আব্দুল গফুরের ৪টি, কালা মেম্বারের ৩টি, আব্দুল কাদেরের ১টি, নূর হোসেনের ১টি, আব্দুল মতিনের ৩টি, আব্দুল জব্বারে ২টি, রহিম মিয়ার ২টি, আবু সায়েদের ১টি, জুয়েল মিয়ার ১টিসহ প্রায় শতাধিক ঘর ভাংচুর করে। এছাড়া একটি মুদি, একটি ওষুধের দোকান, গোলার আড়াইশ মণ ধান, প্রায় ১শ’ মণ চাল, ১৭টি টিউবওয়েল, কমপক্ষে অর্ধশত ফ্রিজ, ৭০টি টেলিভিশনসহ প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি ঘরের হাঁড়ি পাতিল ও ঘরের চালাও খুলে নিয়ে যায়। অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, দাউল্লা গোষ্ঠীর পুরুষ মহিলারা হামলার ভয়ে বাড়ি ছাড়া। এ সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন লুট ও ভাংচুর চালাচ্ছে। জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। অরুয়াইল ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সিদ্দিক জানান, এসব ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে। যখন পুলিশ যায় তখন দাঙ্গাবাজরা পালিয়ে যায়। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।