গ্রেনাডায় গেইলের গর্জন

নাহ, মহাদানবীয় কোন ইনিংস তিনি খেলে ফেলেননি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যার সেঞ্চুরি করার অভ্যাস, তার জন্য ৬৭ বলে ৫৬ রানের ইনিংস বড় কোন প্রাপ্তি নয়। তবে, ক্রিস্টোফর হেনরি গেইল খুব সম্ভবত গতকাল এই সামান্য ইনিংসটার জন্যই স্বস্তি পেতে পারেন। শেষ হাফ সেঞ্চুরিটা যে এসেছিল ১১ টি ওয়ানডে আগে। পরিসংখ্যান ঘাটতে গিয়ে বের হয়ে আসলো আরও ভয়ঙ্কর তথ্য। সর্বশেষ ২৬ টি ওয়ানডে ম্যাচে এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মত পঞ্চাশোর্ধ কোন ইনিংস খেললেন গেইল। তাই গেইলের জন্য ইনিংসটা যে স্বস্তিদায়ক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর ম্যাচটা বাংলাদেশের বিপক্ষে বলে হয়তো বা সেটা গেইলকে বাড়তি আনন্দেরই খোড়াক যোগাবে। এবারই যে প্রথম সোহাগ গাজীর বিপক্ষে ব্যাট চড়াও হয়ে উঠলো তার। গেইল আর গাজীর লড়াইয়ের ইতিহাসটা চলে আসছে আরও দু’বছর আগে থেকেই। শুরুটা হয়েছিল টেস্ট ম্যাচ দিয়ে। লড়াইয়ের প্রথম ধাপটা জিতে গিয়েছিলেন গেইল। সোহাগ গাজীকে ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই উপহার দিয়েছিলেন ছক্কা! এক ছক্কাই যেন বদলে দিয়েছিল গাজীকে। গেইলের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ের এর পরের সবগুলো ম্যাচেই জয়ী তিনি। সেই অভিষেক থেকে শুরু করে গাজীর বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন গেইল। এর মধ্যে চার ইনিংসে তার রান মাত্র ৮৮। সর্বোচ্চ ২৪; দুবার আউট হয়েছেন গাজীর বলে। তবে টেস্ট নয়, বরং ওয়ানডে ম্যাচ গুলোতেই জমে উঠেছিল এই দুজনের লড়াই। ওয়ানডে ম্যাচগুলোতেই গেইলের ব্যাট হয়ে উঠেছিল আরও রুগ্ন। গতকাল গ্রেনাডায় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত দুজনের মধ্যকার ছয়টি ওয়ানডেতে দুবারই তিনি আউট হয়ে গিয়েছিলেন গাজীর বলে। সব মিলিয়ে সেসব ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৫ রান সহ মোট করেছিলেন ৭৫ রান। রানের দিক থেকেই কেবল নয়, স্ট্রাইক রেটেও বেশ দুর্দশার মধ্যেই ছিলেন ক্রিস গেইল। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের ছয় ওয়ানডেতে তার স্ট্রাইক রেট মাত্র ৫৫.১৪। গোটা ক্যারিয়ারে যিনি ৮৪.১২ স্ট্রাইক রেটে রান তুলেছেন তার নামের সাথে এটা কোন ভাবেই যায় না। তবে, পুরনো সেই হিসাব নিকাশ গতকাল এক নিমিষেই উড়িয়ে দিলেন গেইল। শুধু গাজী নয়, মোটামুটি সব বোলারদের বিপক্ষেই দেখা গেল ‘অন্য গেইলকে। তবে, গাজীর উপর একটু বেশিই চড়াও হয়ে উঠলেন। ডান হাতি এই অফ স্পিনারের বিপক্ষে ১৫ বল খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তাতেই বাজিমাত। এর মধ্যে হাঁকিয়েছেন একটি ছক্কা ও দুটি চার। রান তুলেছেন ১৭। ৫ ছক্কা আর তিন চার মিলিয়ে স্ট্রাইক রেটটাও খানিকটা গেইলের মন মত হল অবশেষে। ৮৬.৫৬! গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশে এসে সাংবাদিকদের সামনে ওপেন সেশনে এসে বলেছিলেন, ‘সোহাগ গাজী কে যেন? ওহ যাকে আমি টেস্টে প্রথম বলেই ছক্কা মেরেছিলাম!’ এতোদিন এই কথাটি মুখে বললেও হয়তো বিশ্বাস করতেন না গেইল। গতকাল থেকে হয়তো বিশ্বাস করা শুরু করেছেন!