সোনার বাংলা গড়ে তোলাই তরুণদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, বাংলাদেশ একদিন এশিয়ার বাঘে পরিণত হবে। কিন্তু নারী-পুরুষ, বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী একযোগে কাজ না করলে এই লক্ষ্য পূরণ হবে না। দেশের তরুণদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করা। তারাই সোনার বাংলা গড়ার মূল কারিগর। নারী সমাজকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। নারীকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখা হলে উন্নয়নের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বাঁশখালী গার্লস কলেজের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও খান বাহাদুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি এএফ হাসান আরিফ, কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী ও আইবিএফবি চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাখাওয়াত হোসেন। সভায় মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, খান বাহাদুর ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশখালী গার্লস কলেজ প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ পাচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে একে ডিগ্রি কলেজে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসময় তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। চমেক হাসপাতাল পরিদর্শন এর আগে বন্দরনগরীতে পৌঁছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগ পরিদর্শন করেন ড্যান মজীনা। এসময় তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের চিকিত্সা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেন। মজীনা বলেন, বাংলাদেশের চিকিত্সা ব্যবস্থায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে তা কোনো মিরাকল নয়। এটা কঠোর পরিশ্রমের ফসল। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০১ সালে যখন বাংলাদেশে ছিলাম সে সময়ের পর এখন স্বাস্থ্যখাতে বিরাট পরিবর্তন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও আমেরিকার মত বন্ধু দেশগুলোর অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু হার কমেছে। পাঁচ বছরের নিচের শিশু মৃত্যুহার কমেছে। যা বাংলাদেশকে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা উন্নয়নে সাহায্য করছে। রাষ্ট্রদূতের পরিদর্শনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল গণি ও শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা বানু।