পার্লামেন্ট থেকে ইমরানের দলের এমপিদের পদত্যাগ
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৫
পাকিস্তানে নওয়াজ শরিফের সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির সদস্যরা পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করেছেন। গতকাল শুক্রবার দলের পার্লামেন্ট সদস্যরা একযোগে পদত্যাগ করেন। পিটিআই নেতা শাহ মেহমুদ কোরেশী, আরিফ আলভী এবং শিরীন মাজারি এদিন জাতীয় পরিষদের স্পিকারের কাছে দলীয় শীর্ষনেতা ইমরান খানসহ ৩৪ জনের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এসময় বিভিন্ন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তখন রেড জোন এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে ছিলেন।
এদিকে, আসিফ আলী জারদারির দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি বলেছে তারা অসাংবিধানিক কোনো দাবির পক্ষে থাকবে না। গতকাল রাতে নওয়াজ শরিফের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে জারদারির টেলিফোনে আলাপ হবার কথা ছিল। অন্যদিকে, বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ ঠেকাতে মুলতানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে সেখানকার প্রশাসন। ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে সরকার পতনের জন্য আন্দোলন করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। খবর ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও এনডিটিভির।
সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত পিটিআই আগেই পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিল। গতকাল তারা পদত্যাগ করার পর সাংবাদিকদের কাছে এই পদক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, নওয়াজের সরকার কারচুপির সরকার। তাই এখন আর পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই। সরকার পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচন দেয়ার ঘোষণা দিলেই কেবল আন্দোলন বন্ধ হবে। পিটিআই নেতা মুরাদ সাঈদ বলেন, আমরা আমাদের দলীয় চেয়ারম্যান এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। তাই আমরা এখন আর পার্লামেন্ট সদস্য নই। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের নির্বাচনে ৩৪ আসন নিয়ে পাকিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল ইমরানের পিটিআই। দলটি দাবি করেছে, নওয়াজের দল নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসেছে। তাই পদত্যাগ করে সরকারকে নতুন নির্বাচন দিতে হবে।
পাকিস্তানের সাবেক একজন নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, আইন অনুযায়ী একজন পার্লামেন্ট সদস্য তার পদত্যাগপত্র পেশ করার সাথে সাথে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। তারা যেহেতু মিডিয়ার সামনে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তাই সরকারের লুকোচুরি করার আর সুযোগ নেই। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতেই হবে।
গতকাল পিটিআই নেতা মুরাদ সাঈদ বলেন, আমাদের ভবিষ্যত লক্ষ্য ও দাবি পরিস্কার। আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন চাই। চাই একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, যারা ভোট কারচুপি ঠেকাতে পারবে এবং জনগণের কাছে যাদের জবাবদিহিতা থাকবে। তিনি জানান, এখন তাদের আন্দোলন আর ইসলামাবাদে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে আন্দোলন যাতে সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়। তবে অসাংবিধানিক কিছু করা হবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার নওয়াজ শরিফের সরকারের সাথে সংলাপ চালিয়ে যাবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সরকারের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন ইমরান খান। সংলাপ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি পাকিস্তানবাসীকে এগিয়ে এসে সরকারের পতন ঘটানোর আন্দোলনে সামিল হতে বলেন।
গত বছর মে মাসে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে নওয়াজ শরিফের দল বড় জয় নিয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু পিটিআই এবং পিএটির দুই শীর্ষনেতা ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরি ওই নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল এমন অভিযোগ করে নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের এই দাবিকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে নওয়াজ শরিফ কিছুতেই পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।