সরকারি হাসপাতালের ইউজার ফি বণ্টনের নির্দেশ
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৫
সরকারি হাসপাতালগুলোতে জমা হওয়া ‘ইউজার ফি’র (রোগীদের দেয়া ফি) ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিভাগে (রেডিওলজি, রেডিওথেরাপি, প্যাথলজী ইত্যাদি) কর্মরত ডাক্তার, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও কর্মচারীদের মধ্যে ফের বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের আইন অধিশাখা থেকে গত ১২ আগস্ট একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ওই আদেশ জারি করা হয়। হাইকোর্টে রিটের প্রেক্ষিতে গত কয়েক বছর ধরে এই ফি বিতরণ বন্ধ ছিল।
তবে আদেশে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র চলতি বছরের জুন পর্যন্ত জমা হওয়া ফি বণ্টন করা যাবে। এরপর থেকে জমা হওয়া ফি বণ্টন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে। এছাড়া আদেশে আগামী এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ সংশোধনের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ইউজার ফি বৃদ্ধিসহ আরো কিছু বিষয়ে অধ্যাদেশটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, ১৯৮২ সালের একটি অধ্যাদেশের আলোকে ১৯৮৪ সালে এই ফি বণ্টন চালু হওয়ার পর হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগে কর্মরতরাও ‘ইউজার ফি’ পাওয়ার দাবি তোলেন। এক পর্যায়ে ২০১০ সালে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশে’র পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। পরে হাইকোর্ট ‘ইউজার ফি’ বণ্টন করার আদেশ স্থগিত করে দেয়। এরপর থেকে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ‘ইউজার ফি’ বণ্টন বন্ধ থাকে। সম্প্রতি সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ওই আদেশ বাতিল করে পূর্বের ন্যায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিভাগে ‘ইউজার ফি’ বণ্টন এবং একই সঙ্গে এ ব্যাপারে ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ সংশোধন করার নির্দেশনা দেয়। এই নির্দেশনায় চলতি সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমাকৃত ইউজার ফি বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। এর পর থেকে অধ্যাদেশ সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ইউজার ফি বণ্টন বন্ধ থাকবে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল শুক্রবার ইত্তেফাককে বলেন, মন্ত্রণালয়ের ঐ আদেশটি তিনি পেয়েছেন। সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করেছেন।
এদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানান, মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে শুধু এক্সরে ও প্যাথলজি বিভাগে কর্মরতদের মধ্যে ‘ইউজার ফি’ বণ্টন করা হয়। অথচ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীদের সার্বক্ষণিক সেবা দেন ডাক্তার, নার্স, আয়া ও ওয়ার্ড বয়রা। তাদেরই স্বাস্থ্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাই এ হাসপাতালের সকল বিভাগে কর্মরত ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীদের ‘ইউজার ফি’ দেয়া উচিত।
চিকিত্সকদের মতে, ১৯৮২ সালে দেশের স্বাস্থ্যসেবার তত্কালীন ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী অধ্যাদেশ হয়েছিল। কিন্তু গত ৩২ বছরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় অনেক উন্নয়ন ঘটেছে। স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও বিভাগ হয়েছে অনেক। পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও যুক্ত হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। হাসপাতালের সকল বিভাগেই বিভিন্ন জটিল রোগীদের চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়ে থাকে। ফলে কার্যত হাসপাতালে কর্মরত সবাই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকেন। এ বিষয়টি অধ্যাদেশ সংশোধনের সময় খেয়াল রাখা জরুরি।