চিকিত্সা সেবা নিয়ে অবহেলা বরদাশত করা হবে না
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৭
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, চিকিত্সা সেবা নিয়ে কারো অবহেলা বরদাশত করা হবে না। চিকিত্সকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অচিরেই মনিটরিং শুরু হচ্ছে। কর্মস্থলে কোন চিকিত্সককে অনুপস্থিত পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি চাকরিচ্যুতও করা হতে পারে। তিনি গতকাল ইত্তেফাককে এ কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬ হাজার ১৫১ জন চিকিত্সককে সম্প্রতি নিয়োগ দেয়া হয়। এরমধ্যে ৬২ জন বাদে বাকি সবাই চাকরিতে যোগদান করেন। দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাদের পদায়ন করা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, নতুন নিয়োগকৃত কোন চিকিত্সকের পদায়নের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি বা নীতিমালার ব্যত্যয় হয়ে থাকলে তা বিবেচনা করা হবে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশে এই প্রথমবারের মত এই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিত্সক একই সাথে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এটা বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। আর এই নিয়োগের ফলে মাঠ পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিত্সক সংকট আর থাকবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, চিকিত্সকদের কর্মস্থলে উপস্থিত নিশ্চিতকরণ তথা চিকিত্সা সেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে। এ কাজে সহযোগিতা চেয়ে তিনি সকল সংসদ সদস্যের কাছে এ সপ্তাহে চিঠি পাঠাবেন বলে উল্লেখ করেন।
আন্দোলনের ক্ষমতা বিএনপির নেই
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান: মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ২০১৯ সালের আগে এদেশে কোন নির্বাচন হবে না। বিএনপি যতই তর্জন গর্জন করুক না কেন, রাজপথে আন্দোলনে নামার ক্ষমতা তাদের নেই। ছকবাঁধা কর্মসূচি ঘোষণা করে যাদের কেন্দ্রীয় নেতারা ঘরে বসে থাকেন, তাদের ডাকে সাড়া দেবার মত কর্মী বিএনপিতে পাওয়া যাবে না। তাদের গত কয়েকটি কর্মসূচিতে এর সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।
মোহাম্মদ নাসিম শুক্রবার তাঁর নির্বাচনী এলাকা কাজীপুরের বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির খবর পেয়ে কাজীপুরের দুর্গম চর মাইজবাড়ি, নিশ্চিন্তপুর, খাসরাজবাড়ি এবং চরগিরিশসহ ৯টি পয়েন্টে বন্যার্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।
মন্ত্রী বন্যাদুর্গত মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি নিজে এসেছেন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি যতই হোক তা পুষিয়ে দেয়া হবে। কেউ না খেয়ে থাকবে না। পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী মজুদ আছে এবং তা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। তিনি স্পীডবোটে উত্তাল যমুনা পার হয়ে কখনও মোটর সাইকেল আবার কখনও হেঁটে দুর্গম চরে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে গিয়ে সহানুভূতি জানান।
এ সময় তাঁর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম এমরান হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. শামসুদ্দিন, দলের সাধারণ সম্পাদক কেএম হোসেন আলী হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোকতার হোসেন, কাজীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সরকার বকুল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাফিউল ইসলাম, শওকত হোসেন, খলিলুর রহমান, লুত্ফর রহমান, জিয়াউর রহমান স্বাধীন, আল আমিন ও আসলাম আলীসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।