নিউইয়র্ক পুলিশের সম্মাননা
পেলেন মালালা ও জামিল
শহীদুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২০:৪২
মালালা ইউসুফজাই। পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকার এক কিশোরী। নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে তালেবানদের অবস্থানের বিপক্ষে সদা সোচ্চার তিনি। তালেবানদের সহিংস আক্রমণের শিকার হয়েও আল্লাহর অশেষ কৃপায় আর উন্নত চিকিত্সায় বেঁচে গেছেন এই কিশোরী। তার পরিচিতি এখন বিশ্বব্যাপী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তার ওভাল অফিসে মালালার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন। নারী শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ জঙ্গি সংগঠন তালেবানদের হুমকি উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়া ভবিষ্যতের এই কাণ্ডারিকে স্থানীয় সময় শুক্রবার সম্মাননা দিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) দক্ষিণ এশিয়ার বংশোদ্ভূত কর্মকর্তাদের সংগঠন দেশি সোসাইটি।
নিউইয়র্কের গ্রেটনেক সিটির নর্দার্ন বুলেভার্ডের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আড়ম্বরপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে সাহসিকতার জন্য মালালার সঙ্গেই সম্মাননা পেয়েছেন নিউইয়র্ক পুলিশের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা জামিল সারোয়ার জনি। পুলিশ কমিশনার উইলিয়াম জে. ব্রাটন, ফার্স্ট ডেপুটি কমিশনার রাফায়েল পিনেইরো, ডেপুটি কমিশনার (প্রশাসন) ক্যাথেলিন এস পেরেজ, এনওয়াইপিডি দেশি সোসাইটির সভাপতি মাইকেল নান্দু, সহ-সভাপতি আমজাদ খান, সাধারণ সম্পাদক জন রাজন প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, কমিউনিটি লিডার ডা. মাসুদুর রহমান, বিএনপির বৈদেশিক দূত জাফর সাদী, প্রবাসের জনপ্রিয় টিউটোরিয়াল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মামুনস টিউটোরিয়ালের কর্ণধার প্রিন্সিপ্যাল শেখ আল মামুন, নারী নেত্রী নীরা রব্বানী, পুলিশ অফিসার জামিল সারোয়ারের বড় ভাই ডা. শাকিল সারোয়ার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মালালা ইউসুফজাই তাকে সম্মান জানানোর জন্য দেশি সোসাইটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই সম্মান বিশ্বের সকল অবহেলিত শিশুর, যারা শিক্ষার মত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। মালালা বিশ্বের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার অধিকারের পক্ষে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা নিজেদের হীন স্বার্থে নারী শিক্ষার বিরোধিতা করছে, তারাই একদিন ছিটকে পড়বে।
মালালা ইউসুফজাই বলেন, নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে এখন লড়াই করছে। তিনি বলেন, আগে নারী আন্দোলনকারীরা তাদের অধিকারের কথা তুলে ধরতে পুরুষদের শরণাপন্ন হতেন। এখন আমরা নারীরা সে কাজটা করব। মালালা বলেন, বই ও কলমকে তারাই ভয় পায়; যারা উগ্রপন্থী। কিন্তু উগ্রপন্থীদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে। তিনি সবচেয়ে শক্তিশালী হিসাবে অস্ত্র বই ও কলম হাতে তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি শিশু, একজন শিক্ষক আর একটা বই গোটা বিশ্বকে বদলে দিতে পারে। তিনি নিরক্ষরতা, দারিদ্র্য ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে মালালা নারী শিক্ষার উন্নয়নে পরিচালিত গ্লোবাল হিউম্যান রাইটসের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট দেশি সোসাইটির পক্ষ থেকে মালালার নারী শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ১০ হাজার ডলারের একটি চেক হস্তান্তর করেন। বাবা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাইয়ের সঙ্গেই অনুষ্ঠানে আসেন মালালা। পুরো অনুষ্ঠানেরই মধ্যমণি ছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবর মাসে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে সোয়াত উপত্যকায় তালেবান বন্দুকধারীরা স্কুলবাসের ভেতর তার মাথায় গুলি করে। মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য মালালা তালেবানের সহিংস আক্রমণের শিকার হন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ অফিসার জামিল সারোয়ার দায়িত্বপালনকালে তার ওপর সশস্ত্র হামলার বর্ণনা দেন।
প্রাকৃতিক নিয়মেই বিশ্বে শান্তি আসবে: ড. মোমেন
শান্তির সংস্কৃতি ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া শ্রীচিন্ময় কেন্দ্রের দুই দিনব্যাপী ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনের বক্তব্যে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধ ও সংঘর্ষে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়রোধে প্রাকৃতিক নিয়মেই শান্তি আসবে। তিনি গাজা, মধ্যপ্রাচ্য, লিবিয়া, আফগান ও ইরাকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে বিশ্ব মোড়লদের ভূমিকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে না পেরে শান্তি আনয়নে প্রকৃতি নির্ভরতার কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে ড. মোমেন বলেন, ‘মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।’
শ্রীচিন্ময় কেন্দ্রের দুই দিনব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান ২১ আগস্ট শুরু হয়ে ২২ আগস্ট পর্যন্ত চলে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রায় ৫০টি রাষ্ট্র এতে অংশ নেয়। অনুষ্ঠান সূচিতে ছিল শ্রীচিন্ময় কেন্দ্রের মনোমুগ্ধকর কনসার্ট। এই কনসার্টের গানে গানে ধ্বনিত হয়েছে শ্রীচিন্ময় কেন্দ্রের শান্তির সংস্কৃতি লালন ও দর্শনের কথা। এই প্রতিষ্ঠানটি অর্ধশত বছর ধরে বিশ্বব্যাপী জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানবতার জয়গান গেয়ে শান্তির সংস্কৃতি চর্চার কথা বলে আসছে।