ইউক্রেনে ঢুকেছে রাশিয়ার ত্রাণবহর পশ্চিমা বিশ্বের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
বিবিসি, রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:০৩
কিয়েভের অনুমতি না নিয়েই রাশিয়ার ত্রাণবহর সীমান্ত পেরিয়ে পূর্ব ইউক্রেনে ঢুকে পড়েছে। এতে করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ চালানোর অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। বিনা অনুমতিতে রাশিয়ার ত্রাণবহর ইউক্রেনে প্রবেশ করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোসহ পশ্চিমা বিশ্ব ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে।
রাশিয়ার ত্রাণবহরের ২৬০টি লরির মধ্যে আনুমানিক ৭০টি সাদা লরি গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেন সীমান্তে অপেক্ষমাণ ছিল। গত শুক্রবার লরিগুলো সীমান্ত পেরিয়ে রুশপন্থি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত লুহান্সকের দিকে অগ্রসর হয়। ওই ত্রাণবহরের সঙ্গে কিছুসংখ্যক রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধাও রয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউক্রেনের এক কর্মকর্তা ইন্টারফ্যাক্স বার্তা সংস্থাকে বলেন, এই ত্রাণবহরের সঙ্গে রেডক্রসের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অথচ ত্রাণবহর ইউক্রেনে প্রবেশের আগে কিয়েভ এবং মস্কোর মধ্যে এ ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) বলেছে, রাশিয়ার ওই ত্রাণবহরে রেডক্রসের তত্ত্বাবধান নেই।
বিনা অনুমতিতে ইউক্রেনের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রাশিয়া ত্রাণবহর পাঠানোয় এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোসহ পশ্চিমা বিশ্ব ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছে। একই সঙ্গে মস্কোকে এই ত্রাণবহর ফিরিয়ে নেবার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যথায় রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার বেন রোডস বলেছেন, গাড়িবহর সরিয়ে না নিলে রাশিয়া আরও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে। গাড়িবহরে অস্ত্র থাকতে পারে সন্দেহ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতেও রাশিয়াকে ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করতে দেখেছি।’ এদিকে ন্যাটো কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার রাশিয়ার সাঁজোয়া যান ইউক্রেনের ভিতরে ঢুকে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রতি গোলা ছুঁড়েছে। এর আগে ন্যাটো এক বিবৃতিতে বলেছে, অনুমতি ছাড়া রাশিয়ার ত্রাণবহর ইউক্রেনের ভিতরে ঢুকে পড়ায় সংকট আরো বাড়বে। এরকম পরিস্থিতিতে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের কিয়েভ সফরের কথা রয়েছে।
ত্রাণ সরবরাহের নামে রাশিয়া বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করবে বলে কিয়েভ বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে। কিন্তু রাশিয়া বলছে, অস্ত্র নয় ত্রাণবহরে তারা খাবার, পানীয় ও জেনারেটর পাঠিয়েছে। ত্রাণ বোঝাই ওই বহরকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো। তবে কিয়েভের এক ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ইউক্রেন সেনাবাহিনী রুশ গাড়িবহরকে বাধা দেবে না।