পারিবারিক সহিংসতা রোধে চাই আইনের সঠিক প্রয়োগ
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:২৩
পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি পর্যায় থেকে প্রশাসনের প্রতিটি পর্যায়ে আইন সম্পর্কে অবগত থাকার পাশাপাশি তার প্রায়োগিক দিক থেকেও প্রত্যেককে একনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিজ্ঞজনেরা। শনিবার রাজধানীর জাতীয় মহিলা সংস্থায় অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে নাগরিক জোট, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০-এর প্রয়োগ অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এই কর্মশালার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব তারিক-উল ইসলাম, মহিলা অধিদপ্তর মহাপরিচালক সাহিন আহমেদ চৌধুরী, মহিলা অধিদপ্তরের মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ড. আবুল হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফৌজিয়া করিম ফিরোজ।
কর্মশালায় বলা হয়, ব্লাস্ট এর তথ্য মতে- গত জানুয়ারি থেকে জুন ২০১৪ পর্যন্ত পারিবারিক সহিংসতার ইস্যুতে মামলা হয়েছে ২৩৫টি। তার মধ্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র ৯টি, ব্লাস্ট ৮০টি এবং বিএনডব্লিউএলএ ১৪৬টি মামলা দায়ের করেছে। বিএনডব্লিউএলএ এর মনিটরিং প্রতিবেদনে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ এর প্রয়োগে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন— মামলা দায়েরে আইনী সীমাবদ্ধতা, বাজেট স্বল্পতা, মানসিকতার ঘাটতি, প্রচার স্বল্পতা, মামলার অদেশ প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতাও রয়েছে। তারা আরো বলেন, এ আইন প্রচারে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধান অতিথি তারিক-উল ইসলাম বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবারিক সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব। এসময় তিনি অংশগ্রহণকারীদের সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রভেশন অফিসারদেরকে প্রয়োগকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার আশ্বাস দেন। বিশেষ অতিথি সাহিন আহমেদ চৌধুরী জানান, এ আইনে বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে। দুর্বলতাগুলো দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সে সময় পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এবং সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা বলেন, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির মালামাল উদ্ধারের জন্য সবসময় থানার সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, সিটিজেনস ইনিশিয়েটিভ এগেইনস্ট ডমেস্টিক ভায়োলেন্স (সিআইডিভি) দেশের মানবাধিকার সংগঠন ও নারী নেতৃত্বের সমন্বিত একটি উদ্যোগ বা নেটওয়ার্ক যা নারীর প্রতি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করছে। নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন ২৫টি সংস্থা এবং নারী নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এ জোট। যার বর্তমান সচিবালয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট। কর্মশালায় নির্যাতনের শিকার নারী, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সিআইডিভি’র সদস্য প্রমুখ ইপস্থিত ছিলেন।