মঠবাড়িয়ায় কন্যাসন্তান জন্ম দেয়ায় গৃহবধূ বিতাড়িত
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩১
পর পর দুই কন্যাসন্তান জন্মদানের অপরাধে নার্গিস আরা হাসি (২৫) নামে এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেছে স্বামী মো. শহীদুল ইসলাম। মঠবাড়িয়া উপজেলার পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের মৃত আব্দুল নূর আলম খলিফার মেয়ে নার্গিস আরা হাসির সাথে সূর্যমনি গ্রামের শহীদুল ইসলামের ২০০৮ সালে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে সামিয়া (৩) ও নিশাত (দেড় বছর) দুই কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। প্রথম সন্তান জন্ম হওয়ার পর শহীদুল স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে রেখে সৌদি আরব চলে যায়। কিছুদিন পর নার্গিস স্বামীর কথা অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রামে জানতে পারে তার গর্ভে আবার মেয়ে সন্তান আসছে। এ কথা শুনে স্বামী শহীদুল ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইল ফোনে নার্গিসকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনও নার্গিসের দেখাশোনা বন্ধ করে দেয়। বাবার বাড়িতে বসেই দ্বিতীয় মেয়ে নিশাতের জন্ম হয়। এ সময় নার্গিস গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। শহীদুল বাড়িতে আসলে দুই মেয়ে সন্তানকে নিয়ে আত্মীয়-স্বজনসহ নার্গিস শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আশ্রয় দাবি করেন। কিন্তু শহীদুল ও তার পরিবারের লোকজন ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। প্রতিবাদ করলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দুর্ব্যবহার করে নার্গিসের দুই মেয়েসহ বাড়ি থেকে বের করে দেয়। গৃহবধূ নার্গিস বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক ও নির্যাতন আইনে একটি ও মঠবাড়িয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। মামলা তুলে না নিলে নার্গিস ও তার দুই মেয়েকে প্রাণনাশ করা হবে বলে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে। মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. নাসিরউদ্দিন মল্লিক জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ থানায় মামলা করেছেন। আসামিরা আদালতে হাজিরা দিলে আদালত তাদের জেল-হাজতে পাঠায়। বিচারাধীন মামলায় আসামিরা হুমকি দিচ্ছে এমন অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।