আঁধার ঘরে চাঁদের আলো
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩৩
এবারের এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করলেও মসৃণ নয় উচ্চশিক্ষার পথ, মেধাবী এসব ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্ন আদৌ পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। দারিদ্র্যের কারণে অনেকেরই উচ্চশিক্ষার পথ রুদ্ধ। এসব দরিদ্র মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের সংবাদদাতারা।
চিকিত্সক হওয়ার স্বপ্ন দেখে আটোয়ারীর দীপক
বাবা দর্জি শ্রমিক গয়ারাম বর্মন। মা সুমতি রানী অন্যের বাড়িতে কাজ করে। বাড়ি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মোলানী (কলোনিপাড়া) গ্রামে। ছেলে দীপক কুমার বর্মন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পেয়ে ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু যেখানে দু’বেলা আহার যোগানোই কষ্টকর সেখানে ছেলেকে ডাক্তারী পড়ানো তাদের কাছে সোনার হরিণের মত। ছেলেকে ডাক্তারী পড়ানোর জন্য কোচিং সেন্টারে ভর্তি করালেও টাকার অভাবে সময়মতো ফি দিতে পারছেন না। তাই ছেলের সাফল্যে খুশি হলেও দীপকের স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা এ চিন্তায় চোখ ভেজাচ্ছেন অসহায় এই মা-বাবা।
ভাণ্ডারিয়ার আঁখি আইনজীবী
হতে চায়
টানাপোড়েনের সংসারে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করে ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে পড়াশুনা করে এবছর উচ্চ মাধ্যমিকে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাহাফুজা আক্তার আঁখি। দারিদ্র্য তাকে হার মানাতে পারেনি। আঁখি ভাণ্ডারিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়া গ্রামের দরিদ্র মানিক তালুকদার ও বেবী আক্তারের সন্তান। মা বেবী বেগম বলেন, আঁখি ভবিষ্যতে আইনজীবী হতে চায়। কিন্তু আমাদের এ টানাপোড়েনের সংসারে তাদের এ চাহিদা কি করে মিটাব?
মেধাবী রাজিবের ডাক্তার হওয়ার
স্বপ্ন পূরণে বড় বাধা দরিদ্রতা
বগুড়ার শেরপুর পৌরশহরের ঘোষপাড়া এলাকার দরিদ্র বাবা-মায়ের সন্তান রাজিব হাসান। বাবা আনিসুর রহমান পেশায় রিকশাচালক। আর মা হাফিজা খাতুন গৃহিণী। কেরোসিন কেনার সামর্থ্য নেই তাদের। তাই দিনের আলোকে পুঁজি করে মেধাবী রাজিব হাসান এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। কিন্তু আধপেটা খেয়ে না খেয়ে চলে তাঁদের সংসার। এ অবস্থায় সে স্বপ্ন পূরণ হবে কি না এনিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তাই ভবিষ্যত্ স্বপ্ন পূরণে সমাজের হূদয়বান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন এই অদম্য মেধাবীর।
উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখছে
নড়াইলের রমজান
কৃষক পরিবারের ছেলে রমজান শেখ এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমাদা আদর্শ কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। রমজানের বাবা রফিক শেখ জানান, রমজান পাড়া-প্রতিবেশী ও শিক্ষকদের সহযোগিতা পেয়ে ভালো ফলাফল করেছে। প্রতিবেশীরা জানান, বয়সের ভারে রমজানের বাবা কৃষিকাজ ঠিকমত করতে পারেন না। দরিদ্র সংসারে রমজানকে নিয়ে তাদের অনেক স্বপ্ন। রমজানের পছন্দ শিক্ষকতা। তাই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে চান রমজান।