বিএনপি নেতা মুজিবকে আজ আদালতে হাজির করা হতে পারে
হুমায়ূন রশিদ চৌধরী, সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩০
যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব ও তার ড্রাইভার সোহেলকে আজ রবিবার আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়। এদিকে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করতে গতকাল শনিবার পুলিশের তত্ত্বাবধানে মুজিব সিলেট এসেছিলেন। তবে তার গাড়ী চালক সোহেল এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে তার পারিবারিক সূত্র জানায়। মুজিবও মুক্ত হওয়ার পর থেকে পুলিশের তত্ত্বাবধানেই রয়েছেন, যদিও তিনি সুনামগঞ্জে পৌঁছার পর তার নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।
সোহেলের পিতা আব্দুল ওয়াহিদ গতকাল বিকালে জানিয়েছেন- তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা সোহেলের সাথে সুনামগঞ্জ পুলিশ অফিসে শুক্রবার রাতে দেখা করেছেন। তিনি জানান, তারা কিছুক্ষণ সেখানে ছিলেন।
গত সোমবার প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব ও তার ড্রাইভার সোহেল ঢাকায় মুক্ত হওয়ার পর মুজিবকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হয়। এর পর বুধবার রাতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম তাদের সুনামগঞ্জ নিয়ে আসে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সুনামগঞ্জের আদালতে হাজির করে তাদের নিখোঁজের বিষয়ে জবানবন্দি নেয়ার কথা থাকলেও আদালতে হাজির না করে তাদেরকে ‘অপহরণ স্থল’ সিলেটের টুকের বাজারসহ কয়েকটি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। টুকের বাজার স্পটে কিভাবে তাদেরকে অপহরণ করা হয় তা পুলিশ কর্মকর্তারা সরেজমিনে অবহিত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, মুজিব ও তার ড্রাইভারের বক্তব্যের মধ্যে ফারাক থাকায় এবং আরো কিছু তদন্তের পর আদালতে হাজির করে তাদের জবানবন্দী নেয়া হবে।
সুনামগঞ্জ থেকে বেলা ১২টায় রওয়ানা দিয়ে আড়াইটার দিকে টুকের বাজার এলাকায় যে স্থান থেকে মুজিব ও সোহেল ‘অপহরণ’ হয়েছিলেন সেখানে পুলিশের বিশেষ টিম তাদেরকে নিয়ে আসে। এই টিমের নেতৃত্বে ছিলেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুনূর রশীদ। ‘অপহরণ’ বিষয়ে পুলিশকে দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ। সূত্র জানায়, তাদের দেয়া কিছু তথ্যের মিল-অমিল রয়েছে। তবে সব কিছুই পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
প্রবাসী মুজিব ও তার ড্রাইভার সোহেলকে গত সোমবার সকালে ঢাকার টঙ্গীর নিকট ‘অপহরণকারীরা’ চোখ বাঁধা ও বোরখা পড়া অবস্থায় ছেড়ে গেলে তারা মুক্ত হন। পরে মুজিব তার এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেমায়েতুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের ৬ সদস্যের একটি বিশেষ টিম সুনামগঞ্জ থেকে এ দিনই ঢাকায় পৌঁছে। এরই মধ্যে ড্রাইভারকে খুঁজে না পাওয়ায় সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং নানা কৌতূহলের জন্ম দেয়।
এক পর্যায়ে পুলিশ জানায়, ড্রাইভারকে তারা ঢাকায়ই খুঁজে পেয়েছে। পুলিশের এই বিশেষ টিম উদ্ধার হওয়া দুই জনকে নিয়ে বুধবার গভীর রাতে সুনামগঞ্জে আসার পর পুলিশ সুপারের অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাতে গণমাধ্যম কর্মীরা প্রবাসী মুজিবকে তাদের অপহরণ বিষয়ে কিছু জানতে চাইলে- পুলিশ জানায়, তিনি ক্লান্ত, বিশ্রামের প্রয়োজন। অবশ্য এ সময় মুজিব গণমাধমের ভূমিকার প্রশংসা করেন। এরপর মুজিবের হাজিপাড়াস্থ বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে তিনি পুলিশের নজরদারীতে ছিলেন।