সংস্কৃত কৃত্ প্রত্যয় আলোচনা

সংস্কৃত যেসব প্রত্যয় বাংলা ভাষায় ব্যবহূত হয়েছে সেগুলোকে বলা হয় সংস্কৃত কৃত্ প্রত্যয়। বাংলা ভাষার সংস্কৃত কৃত্ প্রত্যয় জানতে হলে গুণ, বৃদ্ধি, উপধা, টি, ইত্, সমপ্রসারণ ইত্যাদি সম্পর্কে জানা আবশ্যক। উপধা : প্রকৃতির অসত্য ধ্বনির আগের ধ্বনিকে বলা হয় উপধা। যেমন-পঠ্ = প্ + অ + ঠ । ঠ অসত্য ধ্বনি ও অ উপধা টি : আদিস্বরের পরবর্তী সমুদয় ধ্বনিকে একত্রে ‘টি’ বলে। পাঠ এর অর্থ হচ্ছে টি। অনুবন্ধ/ ইত্ : প্রত্যয়ের সঙ্গে বাড়তি কিছু বর্ণ থাকে, যা ধাতু বা প্রত্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়, এই বাড়তি অংশ যা লোপ পায় তাকে ইত্ বা অনুবদ্ধ বলে। কিংবা, ক্রিয়ামূল বা শব্দমূলের সদর্থযুক্ত হলে প্রত্যেয়ের যে অর্থ লোপ পায় তাকে ইত্ বলে। যেমন-(পচ্ + ণক্ = পাচক এখানে পচ্ এর মূলস্তর (প ও চ) অ এর বৃদ্ধি আ হয়ে পেয়েছে এবং ণক ( ণ্ + ক + অ) এর ণ লোপ পেয়ে অক হয়েছে। এখানে ণ হল ইত্। প্রত্যয়ের স্বরগত পরিবর্তন : প্রত্যয় যুক্ত বা শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বরগত কিছু পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনগুলোর নাম গুণ, বৃদ্ধি ও সমপ্রসারণ। এই তিনটিকে একত্রে ‘অপশ্রুতি’ বলে। গুণ ও বৃদ্ধি ” গুণ ও বৃদ্ধির ফলে স্বরের বিভিন্ন পরিবর্তন হয়। গুণ: (ক) ই, ঈ স্থলে এ হয়; যেমন - (চিন্ + আ = চেনা (ই স্থলে এ হল) ; ( নী + আ = নেওয়া (ঈ স্থলে এ হল) (খ) উ, ঊ স্থলে ও হয়; যেমন (ধু + আ = ধোয়া (উ স্থলে ও হল); পু > পো + অন = পবন (গ) ঋ স্থলে অর্ হয়; যেমন (কৃ + তা = করতা > কর্তা (ঋ স্থলে অর্ ) কৃ + অন = করণ বৃদ্ধি: অ স্থলে আ; ই, ঈ স্থলে এ, উ; ও স্থলে ঔ; ঋ স্থলে আব হয়। যেমন- (ক) অ স্থলে আ হয়; যেমন - (পচ্ + অক (ণক) = পাচক (পচ্ -এর অ স্থলে ‘আ’ হল); অলস + যা = আলস্য (খ) ই, ঈ স্থলে ঐ হয়; যেমন - শিশু + ষ্ণ (অ)= শৈশব (ই স্থলে ঐ হল) ; নিশা + অ = নৈশ (গ) উ, ঊ স্থলে ঔ হয়; যেমন- যুব + অবন = যৌবন (উ স্থলে ঔ হল); ভূত + ইক = ভৌতিক (ঊ স্থলে ঔ) (ঘ) ঋ স্থলে আর্ হয়; যেমন (স্মৃ + অক = স্মারক (ঋ আর হল) ; (ধৃ + অক = ধারক সমপ্রসারণ : ব স্থলে উ হয়। যেমন : (বচ্ + ত = উক্ত; য স্থলে ই হয়। যেমন : (যজ্ + তি = ইষ্টি; র স্থলে ঋ হয়। যেমন : গ্রহ্ + ত = গৃহীত।