সুনামগঞ্জে সুরমা সেতুর কাজ শেষ হয়নি নয় বছরেও

সিলেট বিভাগের প্রান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জ। এই জেলার ১১টি উপজেলা; কিন্তু জেলা সদরের সঙ্গে চারটি উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ আজো স্থাপিত হয়নি। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় নয় বছর আগে; কিন্তু সেই সেতু নির্মাণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুর এলাকায় সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয় ২৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটির কাজ বেশ এগুনোর পর ২০১২ সালে হঠাত্ করে নির্মাণাধীন সেতু প্রকল্পটিকে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (এডিপি) থেকে বাদ দেয়া হয়। প্রায় ২৩ কোটি টাকার কাজ শেষ করার পর সেতুটি এডিপি থেকে বাদ দেয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং প্রতিবাদ জানান তারা। অপরদিকে সেতুটি সুনামগঞ্জের জন্য অতীব জরুরি উল্লেখ করে এটি এডিপিতে যুক্ত করার জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পত্র দেন সিলেট জোনের তত্কালীন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। এই চিঠিতে বলা হয়, অর্ধসমাপ্ত ও চলমান প্রকল্পটি বাদ দেয়া হলে ইতিমধ্যে ব্যয় হওয়া ২৩ কোটি টাকা অপচয় হিসেবেই গণ্য হবে। পরে অবশ্য সেতুর নকশা পরিবর্তন করে নতুনভাবে ব্যয় ধরা হয় ৬৭ কোটি টাকা। শুরুতে এর কাজের মেয়াদ দুই বছর থাকলেও সময়মতো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজে বিলম্ব হয় এবং বেশকিছু দিন কাজ বন্ধ থাকে। সর্বশেষ এই সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালের জুন মাসে। তাও নানা জটিলাতায় শেষ হয়নি। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে এ সেতুর ৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। আগামী জানুয়ারি মাসে মূল সেতুর স্টিল আসবে চীন থেকে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গছে, সুরমা নদীর দুই পাড়ে সেতুর দুইটি পাটাতনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন মূল সেতুর মধ্যখানে স্টিল বসানো বাকি। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের মাল্লিকপুরে সেতুর ল্যান্ডিংটি (ফ্লাইওভারের মতো দেখতে) সৌন্দর্যের নতুন রূপ দিয়েছে। তবে এই ল্যান্ডিং-এ মূল সেতু থেকে সংযোগ সড়কে মাঠি ভরাটের কাজ বেশ বাকি। সূত্র জানায়, নদী থেকে মাটি উত্তোলন ও সেতুর ঐ স্থানে ভরাট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেখানে আপাতত কাজ বন্ধ। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইফতেখার কবির বলেন, এই সমস্যার খুব শিঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে। গত ১৮ জুলাই সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মফিজুর রহমান রাজ খান বলেন, নির্মাণাধীন সুরমা সেতু হবে। সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খায়রুল হুদা চপল বলেন, এই সেতুটি সুনামগঞ্জবাসীর স্বপ্ন। এটি উন্মুক্ত হলে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর থানার প্রায় দশ লক্ষাধিক মানুষের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। সুনামগঞ্জের বালি-পাথরসহ অন্যান্য উত্পাদিত মালামাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।