বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কে হচ্ছেন?
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪২
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কে হচ্ছেন- তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। গুরুত্বপূর্ণ এই পদের জন্য চলছে নানামুখী তত্পরতা। অবশ্য দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে কে হচ্ছেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। খুব শিগগির এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে এমন খবরে সভাপতির পদটির জন্য দলের অভ্যন্তরে লড়াই বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।
কেন্দ্রে লবিং করার পাশাপাশি মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে জেবুন্নেসা আফরোজকে সভাপতি করার জন্য রেজুলেশন করে ঢাকায় গেছেন মহানগরের বর্তমান নেতারা। এরা সকলেই প্রয়াত এমপি সাবেক সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরনের অনুসারী হিসাবে পরিচিত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হিরন ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ এই পদে। ২০০৮ সালে তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নগরীকে যেমন ঢেলে সাজিয়েছেন তেমনি দলকেও গুছিয়ে নিয়েছেন তার নিজের মত করে। বিশেষ করে মহানগরী ৩০ ওয়ার্ডের কমিটিতে যারা ঠাঁই পেয়েছেন তারা সকলেই তার লোক হিসাবে পরিচিত। কেউ কেউ এসেছেন জাতীয় পার্টি থেকে। তাদের অবস্থানও দলের মধ্যে দৃঢ় হয়েছে হিরনের কারণে। নিজের অনুসারীদের যথার্থ স্থানে ঠাঁই করে দিয়েই স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তখনই দ্বন্দ্ব শুরু হয় সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর অনুসারীদের সাথে। তখন অবশ্য হিরন ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এবং আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
২০১২ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে হিরনকে সভাপতি এবং এ্যাডভোকেট আফজালুল করিমকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি। একই সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহম্মদ ইউনুচ।
জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তির রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠে পরের বছর ২০১৩ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ঐ নির্বাচনে হিরন তার পরাজয়ের জন্য সরাসরি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহকে দায়ী করে প্রকাশ্যেই মাঠে নামেন। দলের বিভাজন চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। জাতীয় দিবস থেকে কেন্দ ীয় কর্মসূচী পালিত হতে থাকে পৃথকভাবে। হিরনের মৃত্যুর পরও সেই বিভক্তি কাটেনি। মহানগর সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজালের সাথে যুক্ত হয়েছেন প্রয়াত হিরনের স্ত্রী জেবুন্নেসা আফরোজ। ইতিমধ্যেই তিনি হিরনের আসনে দলের মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। অভিভাবকহীন হিরন অনুসারীদের সংগঠিত করে রাখতে তিনিই এ্যাডভোকেট আফজালের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মহানগরীর নেতারাও চাইছেন জেবুন্নেসা আফরোজকে। কিন্তু জেলা-মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ব বিরোধ এ পদে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেবুন্নেসা নারী ও রাজনীতিতে নবাগত বলে সভাপতির পদ পেতে কয়েক নেতা মাঠে নেমেছেন। তারা হলেন— বরিশাল শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, হাসনাত আব্দুল্লাহর ভাই খোকন আব্দুল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রম ও কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিম। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টুর নাম শোনা গেলেও তারা সভাপতি হতে আগ্রহী নয় বলে ইত্তেফাককে জানান। সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, জেবুন্নেসা আফরোজের পক্ষে ৩০ ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা রেজুলেশন করে দিয়েছে। তাকে সভাপতি করলে আমার আপত্তি নেই। তবে নারী বিবেচনায় যদি তাকে সভাপতির পদ না দেয়া হয় তাহলে আমি সভাপতির পদ পেতে চাই। আর বলরাম পোদ্দার কোন অবস্থায়ই মহানগর সভাপতির দায়িত্ব নিতে রাজি নয়। যারা সভাপতির পদ পেতে আগ্রহী তাদের মধ্যে ২/১ জন ব্যতীত সকলেই দলের মনোনয়ন দৌড়ে জেবুন্নেসা আফরোজের কাছে পরাজিত হয়েছেন। তাদের যুক্তি দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন এখন দলীয় পদটি তাদের প্রাপ্য। তাদের সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। আর জেবুন্নেসা আফরোজের জন্য যারা লড়ছেন তাদের যুক্তি সদর আসনের দলীয় এমপি’র যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ না থাকে তাহলে দল পরিচালনা করা এবং ভবিষ্যত্ রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে। এমপি’র বাইরে কেউ সভাপতি হলে তার পক্ষে দল পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে। সম্ভাব্য সভাপতিদের মধ্যে অনেকেই আবার দীর্ঘদিন যাবত্ স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করেন। তাই বরিশাল মহানগর সভাপতির পদে যাকে মনোনীত করা হবে তা চিন্তা-ভাবনা করেই করতে হবে তা না হলে ভবিষ্যতে খেসরাত দিতে হবে আওয়ামী লীগকে। এসব যুক্তিতর্ক নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে মূল দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে।