বাংলাদেশ সীমান্তে পানির ওপর বেড়া নির্মাণ করবে ভারত

অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ সীমান্তে পানির ওপর বেড়া নির্মাণ করবে ভারত। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প আগামী দুর্গাপূজার পর শুরু করা হতে পারে। ইতোমধ্যেই দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বেড়া নির্মাণের মানচিত্র তৈরি করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা তহবিল অনুমোদনের। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া গত রবিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সিঙ্গাপুরের ‘স্কিড মেরিন হেজ’ মডেলের অনুকরণে এই বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। পানিতে ড্রাম বসিয়ে তার সঙ্গে কাঁটাতার জড়িয়ে দেয়া হবে যাতে নৌকায় করে কেউ ভারতে প্রবেশ করতে না পারে। সরকার মনে করছে, ভাসমান এই বেড়া নান্দনিক বৈশিষ্ট্যের না হলেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ প্রবেশ বন্ধ করতে এটা সহায়তা করবে। বিএসএফ’র ইন্সপেক্টর জেনারেল (দক্ষিণ বেঙ্গল) আর কে মিশ্র বলেন, কেন্দ ীয় সরকার চাচ্ছে সীমান্তে বেড়া নির্মাণ করতে এবং আমরা এ সংক্রান্ত সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছি। মানচিত্রের একটি অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। এটা করা হচ্ছে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ৩ হাজার ৩২৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে মাত্র ৫০১ কিলোমিটার সীমান্ত বেড়া নির্মাণ করা বাকি আছে। এর মধ্যে ১৩০ কিলোমিটার ভূমিতে যেখানে বেড়া নির্মাণ চলছে। বাকি সীমান্তে পানি। গত বাজেট অধিবেশনে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং যথা শীঘ্র সম্ভব সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজটি শেষ করার ওপর জোর দেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, পানিতে বেড়া নির্মাণ করাটা জটিল। বিএসএফ কর্মকর্তা জানান, নদীর ৪৫ কিলোমিটার সীমান্তে খাল বা নালা আছে। কিন্তু উত্তর ও চব্বিশ পরগনার বাকি সীমান্তের একটা বড় অংশে পানি ছাড়া কিছুই নেই। আর কে মিশ্র জানান, এটা একটা ব্যয়বহুল প্রকল্প এবং স্থলভাগ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ খরচের চেয়ে দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ খরচ হবে।