রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন হচ্ছে

প্রতি বছরের মতো এবারও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করোনার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি সন্েতাষজনক হলেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এই সাত মাসে আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও আয়কর মিলে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ হয়। এটি মোট লক্ষ্যমাত্রার ৪৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। সংশোধনের মাধ্যমে এটি প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা কমানো হতে পারে। ফলে চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে ৩ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সম্পদ কমিটির আগামী বৈঠকে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে চূড়ান্ত করা হবে সংশোধিত বাজেট। অবশ্য এনবিআর কোনো বছরেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে না। প্রতি বছরই সংশোধন করে কমাতে হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করাও সম্ভব হয় না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কা ও বিশ্ববাজারের অস্হিরতার কারণে কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই লক্ষ্য সংশোধন করা ছাড়া বিকল্প নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) সব মিলিয়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থবছরের শুরুর দিকে রাজস্ব আদায়ে গতি না থাকলেও পরবর্তী সময়ে বাড়ছে। জুলাইয়ে মাত্র ১৫ হাজার কোটি টাকা আদায় হয়। সর্বশেষ জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখীর কারণেও রাজস্ব আদায়ে গতি বেড়েছে। কারণ বাংলাদেশ মূলত আমদানি নির্ভর। তাই পণ্যের দাম বাড়লে রাজস্বের পরিমাণও বেশি হয়। তবে এর নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। কারণ বিশ্ববাজারে এখন সব কিছুর দাম চড়া। ফলে ভোক্তাদের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এনবিআরের পরিসংখ্যান বলছে, আলোচ্য অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি মাসে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ২৪ শতাংশ। এই সময়ে আমদানি শুল্ক খাতে আহরণ হয় ৪৮ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমদানি পর্যায়ে এত বেশি রাজস্ব আদায় আর হতে দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের অন্য দুটি উত্স হচ্ছে মূল্যসংযোজন কর-ভ্যাট এবং আয়কর। এই দুটি খাতেও আলোচ্য অর্থবছরের সাত মাসে ভালো আদায় হয়েছে। এই সময়ে ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ এবং আয়করে সাড়ে ১৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের এই সাত মাসে স্হানীয় পর্যায় থেকে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৫৭ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। আয়কর ও ভ্রমণ খাত মিলে আদায় হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা। করোনার বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় বিদেশে ভ্রমণ বাড়ছে। ফলে এই খাতেও রাজস্ব আদায় বেড়েছে। সাত মাসের হিসাবে ভ্রমণ করে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫৬ শতাংশ। এই খাতে গত জুলাই-জানুয়ারিতে ভ্রমণ কর আদায় হয়েছে ৩৪১ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে আদায় হয় ১৪১ কোটি টাকা।