পাথর উত্তোলনকাজে অপরিহার্য বিস্ফোরক দ্রব্য (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) ফুরিয়ে যাওয়ায় দেশের একমাত্র পাথরখনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের পাথর উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। শনিবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে পাথর উত্তোলনের কাজ বন্ধ করে খনির প্রায় ৭০০ শ্রমিককে সাময়িক ছুটিতে পাঠিয়েছে খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম—জিটিসি।
খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে খনিটি। খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির একটি সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খনি কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করার কথা। কিন্তু সময়মতো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সরবরাহ না আসায় বাধ্য হয়ে খনির উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
খনিশ্রমিকরা জানান, খনিতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত না থাকায় খনির অভ্যন্তরে ব্লাস্টিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে খনির উত্পাদনকাজ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের সাময়িক ছুটি প্রদান করা হয়েছে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যাবস্থাপক (মাইনিং) আবু তালেব ফারাজি জানান, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে তারা বিদেশ থেকে সময়মতো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আমদানি করতে পারেননি। এছাড়া বিস্ফোরক দ্রব্য সব জাহাজ পরিবহন করতে চায় না। এসব কারণেই খনির অভ্যন্তরে ব্ল্যাস্টিংয়ের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক দ্রব্য সময়মতো আমদানি করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ড থেকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সংগ্রহ করা হয়েছে এবং শুক্রবার তা জাহাজেও তোলা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খনিতে এসে পৌঁছালে আগামী ২৭ মার্চ থেকে খনির পাথর উত্তোলন শুরু করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, মধ্যপাড়া পাথরখনি থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম—জিটিসির সঙ্গে ছয় বছরের জন্য পাথর উত্তোলন ও খনির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুনরায় চুক্তি করে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (মধ্যপাড়া পাথরখনি) কর্তৃপক্ষ। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি।