ধর্ষণে অভিযুক্ত সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত সেই শিক্ষক তৌহিদুল ইসলামের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। 

সোমবার (১৪ মার্চ) দুপুরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তৌহিদুল। আসামির জমিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন রাণীশংকৈল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস রমেশ কুমার ডাগা।

তৌহিদুল রাণীশংকৈল উপজেলার সহোদর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে এবং রাণীশংকৈল পাইলট হাইস্কুলের শিক্ষক। তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানের এক দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত। 

এর আগে ৫ মার্চ শিক্ষক তৌহিদুলকে আসামি করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। সেইদিন তৌহিদের বিচারের দাবিতে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা পৌর শহরে মানববন্ধন করে। সেই সঙ্গে ইউএনও এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এরপর আরও চার দফায় আন্দোলন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সর্বশেষ ১৩ মার্চ গ্রেফতারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। 

উল্লেখ্য যে, তৌহিদুল ইসলাম পৌর শহরের ভান্ডারা মহল্লার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ের করা বলে তার সঙ্গে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ঘটনা জানাজানি হলে ওই শিক্ষার্থীর বাবা তৌহিদুলের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তহিদুল ১৫ লক্ষ টাকার যৌতুক চেয়ে বিয়ে করতে চান। বাবা এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ লোকজন গত ৩ মার্চ ওই শিক্ষার্থীকে তৌহিদুলের বাড়িতে রেখে আসে। ওই শিক্ষার্থী বিয়ের দাবিতে সে বাড়িতে অবস্থান নিলে তৌহিদুল বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে পরদিন ৪ মার্চ তড়িঘড়ি করে অন্যত্র বিয়ে করেন। 

গত বৃহস্পতিবার (৩মার্চ) থেকে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের দাবিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন। এ বিষয়ে ওই ছাত্রী জানান, কম্পিউটার অপারেটর তৌহিদুলের সঙ্গে আমার ৩ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এখন তিনি আমাকে এড়িয়ে চলছেন। অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করেছেন। আমি আমার অধিকার আদায়ের জন্য তৌহিদুলের বাড়িতে অবস্থান করছি। তৌহিদুলের পরিবার আমাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমাকে বিয়ে না করলে আমি এ বাসা থেকে যাবো না।