প্রকাশকের ভাবনা

বই সুলভ মূল্যে পাঠকের হাতে পৌঁছাতে বাজার ব্যবস্থাপনা জরুরি

করোনা পরিস্থিতিতেও বিশাল পরিসরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এত বড় মেলার আয়োজন খুব বড় চ্যালেঞ্জ। স্টল ও প্যাভিলিয়ন নির্মাণ, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্হা, নামাজের স্থান নির্ধারণ, সুসজ্জিত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা এসবই মেলাকে পাঠকবান্ধব করেছে।

তবে, এটাও মানতে হবে অমর একুশে বইমেলার পরিসর বাড়ছে কিন্তু বইমেলা তার জৌলুস হারাচ্ছে। এর মূল কারণ পরিকল্পনাহীনতা, অব্যবস্থাপনা। যত্রতত্র বেশি পরিমাণ খাবার স্টল বরাদ্দ, বইবিহীন নানা ধরনের স্টল, মেলায় মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা, পাইরেটেড বইয়ের ছড়াছড়ি বইমেলাকে কলুষিত করেছে। বাংলা একাডেমি প্রকাশক সমিতির প্রতিনিধিসহ মেলা পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্মকর্তাকে নিয়ে মেলা-পরবর্তী রিভিউ মিটিংয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো নির্ধারণ করে সমাধানের পথ খুঁজে নেবে বলে আশা রাখি।

প্রতি বছর যে পরিমাণ বই একটি বইমেলায় প্রকাশিত হয় তা সংখ্যার বিচারে অনেক। কিন্তু নিভু‌র্ল বই, মানসম্মত বই হাতেগোনা। একটি ভালো বই প্রকাশের জন্য ভালো পাণ্ডুলিপি যেমন প্রয়োজন, সেই সঙ্গে প্রয়োজন প্রুফ রিডিং ও সম্পাদনা। তাছাড়া মানসম্মত কাগজ, ট্রেসিং, প্লেট, বাইন্ডিং, কভারসহ অন্য বিষয়গুলো তো আছেই। আর এজন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন, ন্যূনতম চার থেকে ছয় মাস। কিন্তু বেশির ভাগ পাণ্ডুলিপি হাতে আসে ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসে, নির্ভুল বই প্রকাশে যা অন্তরায়। অনেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নেই ভালো প্র‚ফ রিডিং বা সম্পাদনার ব্যবস্থা। সেদিকেও প্রকাশকদের নজর দেওয়া জরুরি। লেখক-প্রকাশকের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি ভালো বই প্রকাশিত হতে পারে।

প্রকাশনার পাশাপাশি একটি বই সুলভ মূল্যে পাঠকের হাতে পৌঁছানোর জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা জরুরি। তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, জেলা শহরে কিছু বইয়ের দোকান থাকলেও উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে সৃজনশীল বইয়ের দোকান নেই বললেই চলে। শুধু কি তাই? বড় বড় বিপণিবিতানগুলোতেও কোনো সৃজনশীল বইয়ের দোকান নেই। এত ভাড়া দিয়ে প্রকাশকদের পক্ষে দোকান বরাদ্দ নেওয়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সরকার প্রকাশক ও মার্কেট কর্তৃপক্ষ মিলে একটি বই বিক্রয়কেন্দ্র রাখতে পারে। কিংবা বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় বই বিক্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে প্রকাশকদের পাশে তাদের দাঁড়ানো উচিত। দিনদিন বেসরকারি লাইব্রেরির সংখ্যা কমে যাচ্ছে, এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি।