বাড্ডায় নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার: সন্দেহে স্বামী ও গাড়িচালক

আফরোজা আক্তার (৩৩)। চাকরি করতেন একটি নাম করা প্রতিষ্ঠানে। আয়ান ফারিজের (৩৩) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই প্রেমের সম্পর্কের জেরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন আফরোজা। পারিবারিক অমতেই আয়ানকে বিয়ে করে সুখের সংসার শুরু করেন আফরোজা। নতুন সংসারের জন্য নতুন বাসাও ভাড়া নেন। সেই নতুন বাসায় রবিবার খুন হন আফরোজা। 

এ ঘটনার পর আফরোজার স্বামী আয়ান ও গাড়িচালক হৃদয় হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা চালক হৃদয় আফরোজাকে হত্যা করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কথায় গড়মিল পাওয়া যাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। 

এদিকে, সোমবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে আফরোজার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম সাতকানিয়ায় গ্রামের বাড়িতে আফরোজার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 

গতকাল মধ্যবাড্ডার গুদারাঘাট কমিশনারের গলির জ-৪১-১ এর বাড়িতে দেখা যায়, সাত তলা ভবনটি প্রায় কাজ সম্পন্ন। বাড়িটির চতুর্দিকে সিসি ক্যামেরায় ভরা। ভেতরেও রয়েছে সিসি ক্যামেরা। তবে যে ফ্ল্যাটটিতে আফরোজা থাকতেন সেই তলায় কোনও সিসি ক্যামেরা নেই। 

কয়েকটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, আফরোজা যখন অফিস থেকে ফিরছিলেন, তখন বিকাল ৫টা ৪৬ মিনিট। ফ্ল্যাটে যাওয়ার আট মিনিট পরই বাসায় প্রবেশ করেন গাড়ি চালক হৃদয় হাসান। এরপর বাইরে চলে যান। কিছুক্ষণ পর ফের বাসায় প্রবেশ করেন। বাসায় প্রবেশের পর প্রায় ঘণ্টা খানেক ছিলেন ওই ফ্ল্যাটে। ঘণ্টাখানেক পর বাসা থেকে বেরিয়ে চলে যান। 

তখন সন্ধ্যা ৬ টা ৪২ মিনিট। সন্ধ্যায় ৭ টার পর আসেন স্বামী আফরোজার স্বামী আয়ান। তিনি দীর্ঘক্ষণ কলিং বেল চেপেও কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রায় ২৬ মিনিট পর নিজেই ফ্ল্যাটের দরজা খুলেন। বাসায় প্রবেশের চার মিনিট পর বাড়ির মালিকের বাসায় দৌড়ে আসেন। বাড়িওয়ালাকে খুনের বিষয়টি জানানোর পর, তারা দেখেন আফরোজার রক্তাক্ত লাশ পরে আছে বাথরুমে। এসময় তার গলা টাকা ছিল। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ আফরোজার স্বামী ও তাদের চালককে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। 

এ বিষয়ে বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা চালক হৃদয় ও স্বামী আয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।