আজিমপুর সড়কে উন্নয়নকাজে ধীরগতি, তীব্র যানজটে ভোগান্তি

একটু পর পর গোরস্থানের উদ্দেশে আসছে লাশবাহী ট্রাক। অন্যপাশে স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি। যানজটের কারণে দুই মিনিটের সড়ক পার হতে লাগছে প্রায় আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা। এটি রাজধানীর আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আজিমপুর গোরস্থান সড়কের চিত্র। সড়কে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজে ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ। সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক এলাকার সামনের এ সড়কে প্রতিদিনই লাখ লাখ মানুষের যাতায়াত। সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ অফিসগামী মানুষকে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। পাশেই আজিমপুর গোরস্থান হওয়ায় ১০ মিনিট অন্তর অন্তর লাশবাহী গাড়িও দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে যানজটে।

azimpur-3

গতকাল সোমবার (১৪ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সড়কে ড্রেনেজ লাইনের কাজ করার কারণে সড়ক সংকুচিত  হয়ে গেছে। যার কারণে তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে সড়কে। সড়কে ড্রেনেজের কাজ মাত্র অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। তবে তখন কাউকে কাজ করতে দেখা যায়নি। পুরো সড়কে উড়ছে ধুলোবালি। নাক চেপে সড়ক পার হচ্ছেন পথচারীরা। পাশেই যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে দেখা গেছে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাকে। মো. নয়ন নামে পুলিশ কর্মকতা‌র্ জানান, দীর্ঘদিন যাবত্ এখানে উন্নয়নকাজ চলায় সড়কে যানজট বেড়ে গেছে। যার কারণে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে জট নিয়ন্ত্রণে। এক দিন কাজ করলে দুদিন কাজ করতে দেখি না কাউকে। স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীচর, শহীদনগর, নবাবগঞ্জ, বছিলাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ যাতায়াত করে। এছাড়া ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অগ্রণী স্কুল, আজিমপুর গালর্স হাইস্কুল, ইডেন মহিলা কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এই রোডে চলাচল করে। যার কারণে ব্যস্ত এই সড়কটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই সড়কে রিকশা চালক নাজিম উদ্দিন বলেন, এই রোডে এখন কেউ ভাড়া নিয়ে যেতে চায় না। অল্প একটু রাস্তা পার হতে ঘণ্টা পার হয়ে যায়। বিশেষ করে স্কুল শুরু ও শেষের দিকে বেশি যানজট বাড়ে।

azimpur-2

ভিকারুন নুন নেসা স্কুলে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন সোহেল হোসেন নামে একজন অভিভাবক। তিনি জানান, এই সড়কে কাজ চলায় এখানে এত তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে, শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ পথে চলাচল করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কাজ দ্রুত শেষ না করলে কোনোভাবে ভোগান্তি কমছে না।

এ বিষয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী কর্মকর্তা বাবর আলী মীর বলেন, এটি আমাদের প্রকৌশলী বিভাগ দেখে, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ বিষয়ে জানার জন্য অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মফিজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি।