‘সব নায়ক-নায়িকার স্বপ্ন ছিলো আজিজ ভাইয়ের ছবিতে কাজ করার’

বহুল আলোচিত সিনেমা ‘ছুটির ঘণ্টা’র নির্মাতা আজিজুর রহমান মারা গেছেন। বাংলাদেশ সময় সোমবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাত ১১টা ২০ মিনিটে কানাডার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি। তার এই মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে বইছে শোকের মাতম। তার সময়কার নানান তারাকাসহ পরিচিত অনেকেই শোক প্রকাশ করছেন।

গুণী এই নির্মাতার একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন একসময়কার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অঞ্জন রহমান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘অশিক্ষিত’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অঞ্জনা লিখেছেন, ‘আরেকটি নক্ষত্রের পতন আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী স্বনামধন্য চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক পরম শ্রদ্ধেয় আজিজুর রহমান ভাই আজ না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আমার বাংলা চলচ্চিত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষে যার অবদান চিরস্মরণীয়। আমার ৫ম চলচ্চিত্র অশিক্ষিত ছায়াছবিতে তিনি আমাকে প্রথম নায়ক রাজ রাজ্জাক ভাইয়ের একক ও প্রধান নায়িকা হিসেবে সিলেক্ট করেন।

তিনি আরও লিখেছেন, অশিক্ষিত বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ  দশটি শিক্ষণীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম একটি এটা আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার। এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবার পর এতোটা ব্যবসা সফলতা পায় যা অকল্পনীয়। অশিক্ষিত ছায়াছবির প্রতিটি গান বাংলা সিনেমা প্রেমী দর্শকদের হৃদয়ে এখনো দোলা দিয়ে যায়। বিশেষ করে ‘ঢাকা শহর আইসা আমার আশা ফুরাইছে।’ ‘আমি যেমন আছি তেমন রবো বউ হবোনারে।’ এখনো সবার হৃদয়ে গেঁথে আছে চীর অমর হয়ে।

অশিক্ষিতের পর আজিজুর রহমান ভাই আমাকে নিয়ে আরও দুটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সেই দুটি চলচ্চিত্রও আকাশ ছোঁয়া ব্যবসা সফলতা পায়। ১। মেহমান ২। ফুলেশ্বরী।

অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্র এই মহান মানুষটি নির্মাণ করেছেন। আজিজ ভাইয়ের পরিচালনায় চলচ্চিত্রে অভিনয় করা ছিলো প্রতিটি নায়ক নায়িকার জন্য অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার। আপনার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আজিজ ভাই। বাংলা চলচ্চিত্রের স্বপ্নীল আকাশে আপনি উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে রয়ে যাবেন আপনার অমর কাজের মাধ্যমে অনন্ত কাল ধরে।

প্রসঙ্গত, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল আজিজুর রহমানের। গত এক বছর ধরে তাকে কৃত্রিমভাবে বাড়তি অক্সিজেন নিতে হতো বলে জানায় পারিবারিক সূত্র।