মেট্রোরেল স্টেশনকেন্দ্রিক নতুন আবাসিক এলাকা তৈরি করতে চায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এতে করে নগরবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। হাঁটা দূরত্বে স্টেশন থাকলে মানুষ সহজেই মেট্রো রেলে চড়ে গন্তব্যে যেতে পারবে।
মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রজেক্ট ফর ডেভেলপমেন্ট অব পলিসি অ্যান্ড গাইডলাইনস ফর ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট এলং মাস ট্রানজিট কোরিডোরস’ শীর্ষক এ প্রকল্পের বিষয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করে রাজউক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী।
রাজউকের চেয়ারম্যান বলেন, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য মাস র্যাপিড ট্রানজিটসহ (এমআরটি) অন্যান্য ট্রানজিট স্টেশন কেন্দ্রিক পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি নীতিমালা তৈরি যা ভবিষ্যতে সব ট্রানজিট স্ট্রেশনভিত্তিক উন্নয়নে গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। পথচারী ও পরিবেশ বান্ধব মিশ্র ব্যবহার ও উচ্চ জনঘনত্ব টিওডি এলাকার অন্যতম মূল বৈশিষ্ট্য।
ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম জানান, নগর পরিবহন এবং এর পরিবেশের ক্রমবর্ধমান সমস্যার মোকাবিলার জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার (জিওবি) ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট কৌশলগত পরিবহন পরিবন্টন (আরএসটিপি) অনুমোদন করেছে।
পরিকল্পনায় ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে পাঁচটি এমআরটি লাইন এবং দুটি বিআরটি লাইন স্থাপনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এমআরটি লাইন বরাবর ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি) বাস্তবায়নের বিষয়টি খসড়া বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (২০১৬-২০৩৫) উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজউক জানায়, এ প্রকল্পের বিষয়ে গত ১০ জুন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হতে রাজউক এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মধ্যে এ বিষয়ে একটি রেকর্ড অব ডিসকাশন্স স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশে উক্ত ধারনাটি নতুন বিধায় ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কিত নীতিমালা এবং নির্দেশিকাগুলো প্রণয়ন বা সংশোধন করা প্রয়োজন। এতে এমআরটি স্টেশনগুলোর সঙ্গে টিওডি বাস্তবায়নের বিষয়টি সমন্বয় করা যাবে; যা ভবিষ্যতে ঢাকা শহরের ট্রানজিট স্টেশনভিত্তিক পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিতসহ যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সভায় জাইকার কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মাস সোরাইসহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।