আগুনের ফুলকি ছড়াচ্ছেন বেনজেমা

রিয়াল মার্দিদের জার্সি গায়ে আগুন ছড়াচ্ছেন করিম বেনজেমা। একের পর এক গোল করে যাচ্ছেন তিনি। বেনজামা ও ব্রাজিলিয়ান সেনসেশনাল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ম্যাজিক্যাল নৈপুণ্যে স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে রিয়াল ৩-০ গোলে জিতেছে মায়োকার বিপক্ষে। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে গেলো কার্লো আনচেলেত্তির দল। সেভিয়ার চেয়ে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে গেলো রিয়াল। ২৮ ম্যাচে ২০ জয় ও ৬ ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট হলো ৬৬। সমান ম্যাচে সেভিয়ার পয়েন্ট ৫৬।

পিএসজির বিপক্ষে ৩-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে নামা রিয়াল পঞ্চম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু ভিনিসিয়ুসের পাস ধরে দুরূহ কোণ থেকে বেনজেমার নেওয়া শট হাত বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। কয়েক সেকেন্ড পর বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফেরলঁদ মঁদির শট পাশের জাল কাঁপায়।

খেলার ধারার বিপরীতে একাদশ মিনিটে বিপদে পড়তে বসেছিল রিয়াল। তবে দূর থেকে সতীর্থের ক্রস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি স্বাগতিক ফরোয়ার্ড ভেদাত মুরিখি। বেশ কিছুটা সময় দুই দলের অগোছালো ফুটবলের পর ৩৫তম মিনিটে প্রথম নিশ্চিত সুযোগটি পায় মায়োর্কা। রিয়াল ডিফেন্ডার ডি-বক্সে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে শট নেন পাবলো মাফেয়ো। কিন্তু তার নিচু শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে পোস্টে বাধা পায়।

রিয়াল মাদ্রিদের সাফল্যের দুই কাণ্ডারি

দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে গোলের দেখা পায় রিয়াল। মায়োকার মিডফিল্ডার ইদ্রিসু বাবা নিজেদের ডি-বক্সের বাইরে ফেদে ভালভেরদের চ্যালেঞ্জে পজিশন হারান। সেই সুযোগে বেনজেমা বল ধরে বাঁ দিকে ভিনিসিয়ুসকে খুঁজে নেন। বিনা বাধায় নিচু শটে গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক গলে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার এটি ১৪তম গোল।

৬৯ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার রাইলোর ট্যাকলে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা পান রদ্রিগো। কিছুক্ষণ চিকিৎসা চলার পর দুই জনের কাঁধে ভর দিয়ে কোনোমতে মাঠ ছাড়েন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। বদলি নামেন মার্কো আসেনসিও। ৭৭ মিনিটে সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেনজেমা। ডি-বক্সে ভিনিসিয়ুস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টিটি পায় তারা। পাঁচ মিনিট পরই বদলি ডিফেন্ডার মার্সেলোর ক্রসে দারুণ হেডে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। লা লিগায় টানা চার ও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন বেনজেমা। এই পাঁচ ম্যাচে আট গোল করলেন তিনি। লা লিগায় সর্বোচ্চ ২২ গোল নিয়ে শীর্ষে ৩৪ বছর বয়সী তারকা। শেষ দিকে ব্যবধান কমানোর ভালো একটি সুযোগ পায় মায়োর্কা। তবে থিবো কোর্তোয়ার বাধা ভাঙতে পারেনি তারা।