ঝিনাইদহে রসুনের দরপতন

ঝিনাইদহে রসুনের দরপতনের ফলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতি মণ (৪০ কেজি) রসুন পাইকারি ১০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। এতে রসুন ব্যবসায়ীদের পুঁজি বাঁচছে না। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহ জেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে এ জেলায় ২ হাজার ৫৯৬ হেক্টরে রসুন চাষ হয়েছিল। রসুন উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৬ হাজার ৯৫৪ টন। দেশের মধ্যে অন্যতম রসুন উৎপাদনকারী এলাকা শৈলকুপা উপজেলা। এ উপজেলাতে চাষ হয়েছিল ১ হাজার ৭৫৫ হেক্টরে। 

চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত মৌসুমে নতুন রসুন ওঠার পর প্রতি মণ বিক্রি হয় ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে। তারপর দর ওঠানামা করতে থাকে। বর্তমানে দাম একেবারে পড়ে গেছে। মঙ্গলবার শৈলকুপা হাটে পাইকারি প্রতি মণ ছোট সাইজের রসুন ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। আর বড় সাইজের রসুন বিক্রি হয় ওপরে ৪০০ টাকা মণ দরে। 

শৈলকুপা উপজেলার খালকুলা গ্রামের চাষি আকুল হোসেন জানান, গত বছর ২৫ কাঠা জমিতে রসুন চাষ করেন। উৎপাদন হয়েছিল ৩০ মণ। কিছু রসুন ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেন। আরো দাম বেশি পাওয়ার আশায় এখন ৮ মণ রসুন তার ঘরে মজুত রাখেন। তা থেকে এক মণ ১৫ কেজি রসুন এখন শৈলকুপা হাটে বিক্রির জন্য আনেন। 

কৃর্তিনগর গ্রামের সাইদুজ্জামান জানান, গত মৌসুমে তিনি ২ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে ভালো মানের ১০০ মণ রসুন কিনে মজুত করেন। মঙ্গলবার ৪০০ টাকা মন দরে বিক্রি করেন। এতে তার অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। 

শৈলকুপা বাজারের পেঁয়াজ রসুনের ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার পাইকারি ছোট সাইজের রসুন প্রতি মণ ১০০ টাকা এবং বড় সাইজের রসুন ওপরে ৪০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হয়। ঐ দিন শৈলকুপা হাটে ২ হাজার মণ রসুন ওঠে। কিছু রসুন বিক্রি না হওয়ায় চাষি ফেরত নিয়ে যায়। 

তিনি আরো জানান, কয়েক দিনের মধ্যে নতুন রসুন উঠতে শুরু করবে। মোকামগুলোতে দেশি রসুনের চাহিদা নেই। ক্রেতা বিদেশি রসুন কিনছেন।  

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. আজগর আলি বলেন, এ জেলায় পেঁয়াজ-রসুন ভালো উৎপাদন হয়। রসুনের দাম পড়ে গেছে। দামের ব্যাপারে তাদের কিছু করণীয় নেই।