করোনায় স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সন্তানরা

করোনার প্রভাবে তৈরি পোশাক শিল্প বা গার্মেন্টস শ্রমিকদের সন্তানদের একটি বড় অংশের স্কুল শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এক জরিপে বলা হয়েছে, স্কুলগামী শিশু রয়েছে এমন ৯ শতাংশ গার্মেন্টস শ্রমিক পরিবার ধারণা করেছে যে তাদের পরিবারের কিছু শিশু বা সব শিশু মহামারির পরে তাদের পড়াশোনা আর চালিয়ে যাবে না।

ঝরে পড়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: তারা এখন পড়াশোনার খরচ বহন করতে অক্ষম অথবা তাদের শিশুরা মহামারির সময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ায় তাদের পক্ষে আর পড়াশোনায় ফিরে আসা সম্ভব নয়।

স্কুলগামী শিশু রয়েছে এমন পরিবারের মধ্যে ১১ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাদের সন্তানদের স্কুল নিয়মিত অনলাইন ক্লাস নিয়েছে, ২৬ শতাংশের মতে স্কুল অনলাইন ক্লাস নিলেও তা নিয়মিত নয় এবং ৫৩ শতাংশ জানিয়েছে যে তাদের সন্তানদের স্কুল কোনো অনলাইন ক্লাস নেয়নি। এই পরিসংখ্যানের মাধ্যমে এটিই স্পষ্ট হয় যে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করার মতো সক্ষমতা সব স্কুলের নেই। অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণকারী শিশু রয়েছে এমন ৩১ শতাংশ পরিবারের মতে ক্লাসগুলো কার্যকর নয়। মাত্র ১৮ শতাংশ পরিবার এগুলোকে কার্যকর বলে মনে করেছে এবং ৫২ শতাংশ পরিবার অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত নয়।

‘গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিজ’ প্রকল্পের অংশ হিসাবে, সানেম এবং মাইক্রোফিন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ধারাবাহিক ভাবে বাংলাদেশের মূল পাঁচটি শিল্প এলাকায় (চট্টগ্রাম, ঢাকা শহর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, এবং সাভার) কর্মরত পোশাক শ্রমিকদের সম্পর্কে প্রতি মাসে তথ্য সংগ্রহ করছে। এ বছরের ১৩ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ২৮০ জন গার্মেন্টস কর্মীর ওপর তাদের পরিবারের শিশুদের শিক্ষার বিষয়ে এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। গতকাল বুধবার এর ফলাফল প্রকাশ করেছে সানেম। চলমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে শিশুরা শিক্ষার ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে সেগুলোর ওপর এই জরিপটি আলোকপাত করেছে।

জরিপের ফলাফলে উল্লেখ করা হয়েছে, গার্মেন্ট কর্মীরা তাদের সন্তানদের মহামারির সময়ে পড়াশুনার ঘাটতি কাটিয়ে উঠার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছেন।

৮৯ শতাংশ পরিবার আশা করে যে তাদের ছেলেরা অন্তত উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হবে, সেখানে মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে ৭৭ শতাংশ পরিবার একই ধরনের আশা করে। জরিপে ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাদের কারখানায় দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। ৬২ শতাংশের শিশুর জন্য কোনো দিবাযত্নের ব্যবস্থা নেই এবং ২১ শতাংশ বলেছেন এমন সেবা আছে কিনা সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। শিশুদের দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে এমন গার্মেন্টস কারখানাগুলোর মধ্যে ৮৮ শতাংশ কারখানাতে মালিক দিবাযত্ন সেবার খরচ বহন করেন।