গত এক যুগের বেশি সময় ধরে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারে রাজত্ব করছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দুজনে মিলে জিতেছেন ১২টি। এর মধ্যে মেসি সর্বোচ্চ ৭ বার ও রোনালদো পাঁচবার। এর বাইরে যে বছর তারা পুরস্কার জিতেনি, সে বছর অন্তত সেরা তিনে থেকেছেন। কিন্তু এবারই সম্ভবত তারা এ তালিকায় থাকছেন না। এমনকি সেরা পাঁচে থাকার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
কারণটা স্পষ্ট। আগের মতো এ বছর নিজেদের সেরা ফর্মে নেই মেসি ও রোনালদো। এর বাইরে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের নিয়মে এবার চারটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার মধ্যে একটি সময়কাল পরিবর্তন। আগে পুরো এক বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হতো। এর সঙ্গে জাতীয় দল ও দলীয় পারফরম্যান্সও বিবেচনায় আনা হতো। কিন্তু এ বছর থেকে সেগুলো আর থাকছে না।
কেবল মৌসুম ভিত্তিক (আগস্ট-জুলাই) পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হবে। আর জাতীয় দল ও দলীয় পারফরম্যান্স থেকেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বেশি মূল্যায়ন করা হবে। আরও একটি নিয়ম হলো, শক্তিশালী ভোটার তালিকা। আগে ১৭০টি দেশের প্রতিনিধিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতো। এবার সেটি কমিয়ে ১০০তে নিয়ে আসা হয়েছে। যার কারণে ফিফা র্যাংকিংয়ে ১০০ এর বাইরে থাকা দেশগুলো ভোট দিতে পারবে না। অর্থাৎ যারা ভোট দেবে তারা সঠিকটাই দেবে।
এবার আসি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে। এরই মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, নেইমার ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এর মধ্যে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আলো ছড়াচ্ছেন এমবাপ্পে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত পিএসজির জার্সিতে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন (২৫ গোল) তিনি। করিয়েছেনও আরও ১৭ গোল। এটিও সর্বোচ্ছ। এর বাইরে জাতীয় দলের হয়ে জিতেছেন নেশনস লিগ। লিগ ওয়ান শিরোপাও পিএসজির ঘরে থাকছে যে তা একপ্রকার নিশ্চিত। ফলে ব্যালন ডি’অর জেতার রেসে সেরা চারে থাকতে পারেন তিনি।
অন্যদিকে, মেসি, নেইমার ও রোনালদো যে এ তালিকায় থাকছেন না তা একপ্রকার নিশ্চিত। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে তারা সেভাবে আলো ছড়াতে পারছেন না। এর বাইরে এ মৌসুমে রোনালদোর কোনো শিরোপা জেতার সুযোগ নেই। এক যুগের বেশি সময় পর তার সঙ্গে এমনটা ঘটছে। মেসি ও নেইমারের কেবল লিগ ওয়ান জেতার সুযোগ আছে। কিন্তু সেটা ব্যালন ডি’অর জেতার জন্য যথেষ্ট নয়।
এবার আসি চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত কারা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। সবার আগে নাম আসবে বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ ফরোয়ার্ড রবার্ট লেভানডফস্কির। ২০২০ সালেই তিনি ব্যালন ডি’অর জিততেন। কিন্তু সেবার পুরস্কারটি দেয়নি ফ্রান্স ফুটবল। এবার নিয়মে পরিবর্তন করায় তার সম্ভাবনা বেশি। পারফরম্যান্সের দিক দিয়েও অনেকটা এগিয়ে তিনি। এই মুহূর্তে চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা (১২ গোল) তিনি। সব লিগ মিলিয়ে পুরো মৌসুমে ৩৬ ম্যাচে ৪৩ গোল। টানা অষ্টম বুন্দেসলিগা জিততে যাচ্ছেন তাও অনেকটা নিশ্চিত। চ্যাম্পিয়ন লিগ ও জার্মান কাপ জয়ের সম্ভাবনাও আছে।
এর পরই যে নামটি আসবে তিনি হলেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা। এরই মধ্যে চলতি মৌসুমে লা লিগায় তার ২০ গোল হয়ে গেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে পিএসজিকে প্রায় একার হাতেই হারিয়েছেন। সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে পুরো মৌসুমে ৩৩ ম্যাচে করেছেন ৩০ গোল এবং করিয়েছেন আরও ১২টি। এর বাইরে জাতীয় দলের হয়ে নেশনস লিগও জিতেছেন। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়েরও সুযোগ আছে।
লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহর কথাও বলতে হবে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২০ গোল নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিশরীয় এই ফরোয়ার্ড। সব লিগ মিলিয়ে গোল করেছেন ২৮টি ও করিয়েছেন আরও ১০টি। কয়েকদিন আগেই লিগ কাপ জিতেছে লিভারপুল। এখনো প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও এফএ কাপ জয়ের সুযোগ আছে।