সাভারে কারখানার ভেতর থেকে কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সাভারে আশুলিয়ায় একটি কারখানার ভিতর থেকে ম্যানেজারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া বটতলা এলাকায় বাগদাত প্যাকেজিং নামক কার্টুন কারখানার ভিতরে আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় নিহতের কাছ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

নিহতের নাম সাইফুর রহমান (৩৩)। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার পূর্ব শেখেরপুড়া এলাকার মৃত বদিউর রহমানের ছেলে এবং কারখানা মালিকের ভাগ্নে। সাইফুর রহমান বাগদাত প্যাকেজিং কারখানায় জেনারেল ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। 

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়ার বটতলা এলাকার আব্দুল হাসনাতের মালিকানাধীন বাগদাদ প্যাকেজিং কারখানার ভেতর সাইফুর রহমানকে নিজ কক্ষের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় শ্রমিকরা। পরে বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙ্গে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে। এসময় তার কাছ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। আত্মহত্যার আগে ওই যুবক চিরকুটে তার স্ত্রীকে নতুন সংসার করার ইঙ্গিত দিয়ে লেখেন, ‘খুব দ্রুত সংসার জীবন শুরু করবা। আমার জন্য দোয়া করবা আল্লাহ যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন।’

চিরকুটে তিনি লেখেন- আমার কারো ওপর কোন মান-অভিমান, রাগ নেই। আল্লাহর জন্য আমি সবাইকে ভালবাসি। আমার এই লাশ আমার মায়ের কাছে পৌঁছিয়ে দিবেন বা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ আমার জীবনে করে যাওয়া কোন কাজের জন্য উসিলা হিসাবে কবুল করে আমাকে মাফ করে দেন। রফিক দুলাভাই অনেক ভাল লোক। যখনই আমি কোন সমস্যায় পড়তাম তখন রফিক ভাইয়ের কাছে গেলে আপন ভাইয়ের মত পাশে দাঁড়াতেন। বুকে আগলিয়ে রেখে পরামর্শ দিতেন। ভাই আপনি সাইমুনকে আপনার ছোট ভাইয়ের মত আগলিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন। সাইমুন তুমি রফিক ভাইকে বাবার মত সম্মান করবে। আমার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমাকে মাফ করে দেন।

নিহতের মামা কারখানা মালিক আব্দুল হাসনাত জানান, তার ভাগিনা খুবই পরেজগার ছিলেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। কারো সঙ্গে বিরোধ ছিল না তবে কেন সে আত্মহত্যা করলো এ ব্যাপারে তিনি কিছুই বলতে পারেন না।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন বলেন, নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।