চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে অটোরিকশার নৈরাজ্য

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। যাত্রীবাহী বাস চলাচল না থাকায় সড়কে এমন পরিস্হিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে অনুমোদন নেই, অন্যদিকে অদক্ষ চালকের কারণে ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে যানজটসহ নিত্য ঘটছে দুর্ঘটনা।

চট্টগ্রাম কাপ্তাই যাত্রীবাহী বাসচালক সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুচ জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কে লোকাল বাস সার্ভিস বন্ধ। চালু আছে চট্টগ্রাম টার্মিনাল থেকে চন্দ্রঘোনা, কাপ্তাই, ধামাইর হাট যাত্রীবাহী বিরতিহীন সার্ভিস। সড়কে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের ভরসা এখন সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এতে সড়কে সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা বেড়েছে। কাপ্তাই সড়কে অন্তত ১০ হাজারের অধিক সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। যার মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগই রেজিস্ট্রেশনবিহীন। অধিকাংশক্ষেত্রে লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালকরাই চালাচ্ছে এসব অটোরিকশা।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাত্রী বামপাশে ঝুঁলিয়ে নেওয়া হয়, সঙ্গে পণ্যও পরিবহন করা হচ্ছে। দেখা গেছে, সড়কের রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন, মরিয়মনগর চৌমুহনি রোযাজারহাট স্ট্যান্ডে অটোরিকশার ভিড়। এতে রাস্তা সংকোচিত হয়ে পড়েছে। গোচরা চৌমহনী ইছাখালী এবং চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকায়ও অটোরিকশার দখলে। গোডাউন এলাকায় কর্ণফুলী সেতু হয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার সড়ক এসে মিলেছে। মরিয়ম নগর চৌমুহনী এলাকায়ও দুই পাশের গ্রামীণ সড়ক এসে মিলেছে। সংযুক্ত সড়কের যানবাহন প্রধান সড়কে উঠতে এসব এলাকায় প্রায়ই দুঃসহ যানজট লেগে থাকে। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে এ বছরে অন্তত ৫০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মারা গেছেন ১৫ জন। আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী।

সড়কের নিয়মিত যাত্রী রাঙ্গুনিয়ার রোযাজারহাটের ওষুধের দোকানদার খোকন দে জানান, সড়কে এক সময় লোকাল সার্ভিসের বাস চলাচল ছিল। স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা বাসে যাতায়াত করত নিরাপদে। চন্দ্রঘোনার কদমতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘নানা কাজে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়, এতে সড়কে সিএনজি অটোরিকশাই একমাত্র ভরসা। আগে লোকাল বাস, টেম্পোসহ অনেক ধরনের গণপরিবহন ছিল। এতে ভাড়াও ছিল কম, চলাচলও ছিল নিরাপদ। মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন নামে এক ব্যাংকার বলেন, গণপরিবহন না থাকায় সিএনজি অটোরিকশায় ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এসব গাড়িগুলো অনেক ক্ষেত্রেই চালায় অদক্ষ চালকরা। এদিকে লোকাল সার্ভিস বন্ধ করার প্রসঙ্গে জেলা পরিবহন বাস ও মিনিবাস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, ২০০৮ সাল থেকেই সড়কে লোকাল বাস সার্ভিস বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে যে হারে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে তাতে বাস চালানো দুরূহ হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার ইউনুস বলেন, ‘স্বল্প দূরত্বে চলাচলের জন্য বাস না থাকায় বিপাকে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। সড়কে বেড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সেইসঙ্গে অদক্ষ চালক। তবে এসবের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্হা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া লোকাল বাস আবার চালুর ব্যাপারে পরিবহন সংগঠনগুলো উদ্যোগ নিলে আমরা সহায়তা করব।’