পটুয়াখালীর উপকূলে বালুর স্তর জমে শ্বাসমূল চাপা পড়ে মারা যাচ্ছে গাছ। গত তিন-চার বছর ধরে এভাবে গাছের মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে দেশের উপকূলে প্রাণ ও সম্পদহানি কমানো এবং জেগে ওঠা চর স্থিতিশীল করতে ষাটের দশকে দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলীয় বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৭ সালে বন উত্পাদন বিভাগ বরিশাল গঠন করা হয়। তখন থেকেই শুরু হয় দক্ষিণাঞ্চলে বনায়ন কার্যক্রম।
১৯৬৬-৬৭ সাল থেকে নদী এবং সাগরে জেগে ওঠা চর জমিতে মৃত্তিকা স্হায়ীকরণসহ পরিবেশ ও প্রতিবেশগত কারণে ২১ হাজার ৪৬২ হেক্টর জমিতে বন তৈরি করা হয়। ১৯৯৫-৯৬ সাল থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় ১২৩৪ কিলোমিটার সড়কে স্ট্রিপ বাগানের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এছাড়াও, দক্ষিণাঞ্চলে থানা বনায়ন ও নার্সারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাগান তৈরি করা হয়।
পটুয়াখালী বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, উপকূলীয় বন বিভাগ পটুয়াখালীর আওতায় পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বনভূমি রয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৫ একর। এর মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৮৯ হাজার ২৫৭ একর এবং সংরক্ষিত ঘোষিত হয়নি এরূপ বনভূমি ২৭ হাজার ২০৮ একর। উপকূলীয় এলাকার এসব বনাঞ্চলের গাছের মড়ক দেখা দিয়েছে।
এর কারণ সরেজমিনে অনুসন্ধানের জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পটুয়াখালীর সহকারী বন সংক্ষক মো. তারিকুল ইসলামকে নির্দেশ দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে সৈকতের ১৮ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন ধরনের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চলে চার-পাঁচ ফুট উচ্চতায় বালি এসে জমা হয়। এতে শ্বাসমূল ঢেকে যায়। এ কারণেই গাছ মারা যাচ্ছে। সহকারী বন সংক্ষক মো. তারিকুল ইসলাম তার মতামতে আরো জানান, প্রাকৃতিক কারণে এসব গাছ মারা যাচ্ছে। পরিকল্পিত উপায়ে ঝাউ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে অনেকাংশে পরিস্হিতির উন্নয়ন সম্ভব।
উপকূলীয় বন বিভাগ পটুয়াখালীর কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন ইত্তেফাককে বলেন, ‘সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের পানির উচ্চতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই জোয়ারের পানির সঙ্গে আসা বালুর স্তর পড়ে বনাঞ্চলের গাছের শ্বাসমূল ঢেকে যাওয়ায় মারা যাচ্ছে গাছ।’
সাম্প্রতিক সময়ে উপকূলে গাছ মারা যাওয়া ব্যাপক হওয়ায় তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। গাছের এই মড়ক রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।