পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গার খালে বাঁধ দিয়ে দুই ইউপি সদস্য মাছের ঘের নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে স্থানীয় কয়েক জন প্রভাবশালী ব্যক্তিও একই খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। এলাকার কৃষকদের দাবি খালটি দখলমুক্ত ও পুনর্খনন করে পানির স্রোতধারা স্বাভাবিক করা হোক।
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের স্লুইস গেট থেকে উত্তর ছোটবাইশদিয়া গ্রামের বসির প্যাদার বাড়ির পাশে ওয়াপদা রাস্তা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালটি ডাঙ্গার নামে পরিচিত। খালের পশ্চিম মাথা অর্থাৎ বসির প্যাদার বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে খালের স্বাভাবিক স্রোতধারা না থাকায় ভরাট হয়ে গেছে খালটি। এদিকে পশ্চিম মাথায় ওয়াপদা রাস্তার (বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ) সঙ্গেই স্থানীয় কয়েক জন খালে বাঁধ দিয়ে বালু ভরাট করে পুকুর ও মাছের ঘের তৈরি করেছেন। এখন তাদের পাশাপাশি দুই জনপ্রতিনিধি একত্রিত হয়ে নারী মেম্বারের বাড়ির পাশে খালে বাঁধ দিয়ে ঘের নির্মাণ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মধ্যবয়সি নারী বলেন, ‘প্রথমে রাস্তার ধারে ইউনুস শিউলি নামের একজন বালি ভইরা নিজের জায়গা করছে। পরে বসির প্যাদা, অসিম প্যাদা, মিজানুর হাওলাদারের পুকুর আর এ্যাহন নতুন কইরা মহিলা মেম্বার আর মিন্টু মেম্বার মিলা মাটি কাইট্টা ঘের বানাইতাছে।’
একই এলাকার হাসান মৃধা বলেন, ‘দীর্ঘদিন খালে পানি চলাচল বন্ধ থাকায় খালটি এখন মৃতপ্রায়। এতে আমাদের এলাকার কৃষকের ফসল ফলানোর পাশাপাশি চাষবাস করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। খালটি পরিকল্পিতভাবে খনন করা উচিত। কিন্তু তা না করে স্থানীয়দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন দুই ইউপি মেম্বারও সরকারি খালে বাঁধ দিয়া মাছের ঘের করার জন্য ভেকু (স্ককাভেটর) দিয়ে মাটি কাটছে। এতে স্থানীয় লোকজনসহ কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন।’
জানতে চাইলে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত-১ আসনের নবনির্বাচিত নারী ইউপি সদস্য অভিযুক্ত রিনা বেগম বলেন, ‘বিগত প্রায় ১৫ বছর আগে এই খালটায় পানি চলাচল করত। খালটা মইরা (ভরাট) যাওয়ার পরে এখন আর পানি আসে না। পানির অভাবে ফসল পুইড়া যায়। আমিও চাই খালটা কাটা (খনন) হোক।’ আপনি নিজেই তো খালে বাঁধ দিয়েছেন—প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘খাল খনন করলে তখন আমি বাঁধ ছেড়ে দিমু।’ এ সময় স্থানীয় ইউনুস শিউলি, বসির প্যাদা, অসিম হাওলাদার এবং মিজানুর হাওলাদারের এরকম আরো চারটা বাঁধ আছে বলে তিনি জানান।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে একই ওয়ার্ডের সাধারণ ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘আমি এর সঙ্গে জড়িত না। এলাকার লোকজন বলছে তাই নাকি মহিলা মেম্বার পানি রাখার জন্য খাল খনন করছেন।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ বা ঘের করার কোনো সুযোগই নেই। আর জনপ্রতিনিধিরা এটা করতে পারে না। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’