বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে আজিজুর রহমানের দুটি সিনেমা

দেশ-বিদেশে বহুল আলোচিত সিনেমা ‘ছুটির ঘণ্টা’র নির্মাতা আজিজুর রহমান আর নেই। বাংলাদেশ সময় সোমবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাত ১১টা ২০ মিনিটে কানাডার একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

আজ দেশে আসছে তার মরদেহ। বাদ মাগরিব এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হয় তার নামাজে জানাজা। এখানে জানাজা ও ফুলেল শ্রদ্ধা শেষে আজিজুর রহমানের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ধানমন্ডিতে তার বাসভবনে। সেখান থেকে আগামীকাল সকালে হেলিকপ্টারে তার গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সান্তাহারে।

তাকে শেষ বিদায় দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা হাজির হন।  আজিজুর রহমানের শিষ্য ও ভাগ্নে গুণি নির্মাতা ড. মতিন রহমান শোকে বিষন্ন।

ছবি: ইত্তেফাক

মতিন রহমান বলেন, ‘এমন নির্মাতা আর হবে না আমাদের দেশে। তার সিনেমার ভাষা, লাইট, দৃশ্যায়ন সবই অদ্ভুত রকমের শৈল্পিক। তার প্রতিটি কাজ আমাদের এখানকার নির্মাতাদের জন্য শিক্ষা সফরের মতো।’

তিনি বলেন, 'আমি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াই। আজিজুর রহমানের দুটি সিনেমা সেখানে পাঠ্য। একটি হলো ছুটির ঘণ্টা অন্যটি 'জনতা এক্সপ্রেস'। মানে গুণে এই দুটি সিনেমা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় অর্জন।

 

আজিজুর রহমান কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশামের সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ৫৪টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। তবে অশিক্ষিত (১৯৭৮), মাটির ঘর (১৯৭৯), ছুটির ঘণ্টা (১৯৮০) চলচ্চিত্র পরিচালনা করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন আজিজুর রহমান।

এছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হলো- ‘মধুমালা’, ‘অপরাধ’, ‘পরিচয়’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘ডাক্তার বাড়ি’, ‘গরমিল’, ‘রঙিন রূপবান’, ‘রঙ্গিন কাঞ্চন মালা’, ‘আলিবাবা চল্লিশ চোর’, ‘মায়ের আঁচল’, ‘মেহমান’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘যন্তর মন্তর’, ‘মহানগর’, ‘ফুলেশ্বরী’, ‘সোনার তরী’, ‘অনুভব’, ‘প্রতিদান’, ‘সাত বান্ধবী’, বস্তির রাণী’, ‘দিল’, ‘জমিদার বাড়ির মেয়ে’, ‘ঘর ভাঙা সংসার’, ‘কথা দাও’, ‘লজ্জা’, ‘সমাধান’ ইত্যাদি।