চীনা বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ

সোমবার (২১ মার্চ) চীনের রাষ্ট্রীয় ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের একটি বিমান দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় পাহাড়ী এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে ১৩২ জন যাত্রী ও ক্রু ছিল। দেশটির স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ও উদ্ধারকারীরা জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানের আরোহীদের কারও বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দক্ষিণ চীনের দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিচে নেমে আসে। দৃশ্যত স্বাভাবিক ফ্লাইটটি একটি ট্র্যাজেডিতে পরিণত হতে মাত্র আড়াই মিনিট সময় নিয়েছে। বিমানটি ছিল একটি ৭৩৭-৮০০ মডেলের। বিশ্বব্যাপী এটি নিরাপত্তার জন্য প্রমাণিত নকশা। 

৭৩৭-৮০০ মডেলের প্রথম উড়োজাহাজটি তৈরি হয়েছিল ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে। এই মডেলটি বিমান পরিবহন জগতের অন্যতম মূল যান এটি। হাজার হাজার ৭৩৭-৮০০ এখনো সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এর নিরাপত্তা রেকর্ডও অন্যান্য মডেল থেকে ভালো। কিছু পুরানো উড়োজাহাজে বহুব্যবহার জনিত ফাটল পাওয়া গেছে। তবে চীনা বিমানটি ছিল মাত্র প্রায় ৭ বছরের পুরানো।

এ উড়োজাহাজটির সঙ্গে ৭৩৭ ম্যাক্স এর কোনো যোগসূত্র নেই। ৭৩৭ ম্যাক্স এই সিরিজের এক নতুন সংস্করণ। নকশার ত্রুটির কারণে দুটি বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে সারাবিশ্বে ৭৩৭ ম্যাক্স ওড়ানো বন্ধ ছিল।  

তদন্তকারীরা দুর্ঘটনাটির অনেক সম্ভাব্য কারণের দিকে নজর দেবেন। এর মধ্যে থাকবে সন্ত্রাসবাদ, প্রযুক্তিগত সমস্যা যেমন, কাঠামোগত ব্যর্থতা বা মাঝ আকাশে সংঘর্ষ। তারা পাইলটদের যোগাযোগের বিবরণ দেখবেন, পরীক্ষা করবেন ধ্বংসাবশেষের অবস্থা। ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডারও খতিয়ে দেখা হবে। সেই রেকর্ডারগুলোতে দুর্ঘটনার ঠিক আগে ঠিক কী এবং কেন তা ঘটেছিল তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার কথা।

উড়োজাহাজটি আকাশ থেকে প্রায় খাড়াভাবে পড়ে যাওয়ার ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকার ডেটা দেখিয়েছে, বিমানটি তিন মিনিটের মধ্যে কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমেছে। এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে চলমান উড়োজাহাজটি ২৯ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় চলছিল। কিন্তু দুই মিনিট ১৫ সেকেন্ড পরেই এটি মাত্র ৯ হাজার ০৭৫ ফুটে নেমে আসে। ফ্লাইটের শেষ তথ্যে দেখা গেছে যে এটি ৩ হাজার ২২৫ ফুট উচ্চতায় ছিল।  

চীনের বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ লি জিয়াওজিন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ‘সাধারণত ক্রুজ পর্যায়ে প্লেন অটোপাইলটে থাকে। তাই ঠিক কী ঘটেছে তা বোঝা খুব কঠিন।’

বেইজিংভিত্তিক অ্যারোস্পেস নলেজের প্রধান সম্পাদক ওয়াং ইয়ানান চীনের গ্লোবাল টাইমস পত্রিকাকে বলেছেন, ‘খুব সম্ভবত বিমানটি উপরে উঠে ভেসে চলার উচ্চতায় যাওয়ার পর শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। এর ফলে পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারান। এটি গুরুতর প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা যেখানে বিমানটি অনিবার্যভাবে দ্রুতগতিতে নিচে নেমে আসে।’