১ লাখ টাকায় কন্যা সন্তানকে বিক্রি

চিকিৎসা ব্যয় ও ঋণের টাকা পরিশোধের কারণে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে নিজ শিশু সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছে পিতা-মাতা। শিশু জুবেদা আক্তার মিনা হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড খাটরা-বিলওয়াই মজুমদার বাড়ির বশির মজুমদারের ছোট কন্যা। 

দুই কন্যা সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বশির মজুমদারের সংসার। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে যায় তার। পরে পায়ে রড লাগানো হয়। টাকার সংকটে সেই রড খুলতে পারছেন না তিনি। বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিওর ঋণের টাকা পরিশোধ ছাড়াও চিকিৎসা খরচ যোগাতেই এক বছরের কন্যা শিশুকে বিক্রি করে দেওয়া।

শিশুর মা আছমা বেগম জানান, রবিবার (২০ মার্চ) চাঁদপুরে কোর্ট এভিডেভিডের মাধ্যমে শিশুকে বিক্রি করেন। ঋণগ্রস্ত থাকায় শিশুকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এছাড়া তার স্বামী বশির মজুমদার অসুস্থ ও বেকার। তবে এখন ওই শিশু সন্তানকে ফেরত চান মা আছমা বেগম। মেয়ের জন্য পরান পড়ে (মায়া লাগে)। কিন্তু কি করবো, আমার স্বামীর চিকিৎসা দরকার। তিনি অসুস্থতার জন্য কোন কাজ কর্ম করতে পারেন না। তিনি সুস্থ থাকলে আমাদের খাওয়া-পড়া। তাই বাধ্য হয়ে মেয়েটারে দত্তক দিয়েছি।

শিশুটির বাবা মো. বশির জানান, ২০১৬ সালে সিএনজিচালিত স্কুটারের চাপায় গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর চিকিৎসাজনিত কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি টাকার অভাবে চিকিৎসা এবং ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। এছাড়াও তিনি অসুস্থতার কারণে আয়-রোজগার করতে পারছেন না। পারছিনা। তাই ছোট মেয়েকে দত্তক দিয়ে দিয়েছি। বিনিময়ে তারা আমার চিকিৎসার জন্য ১ লাখ টাকা দিয়েছেন।

এদিকে শিশুটির চাচা জানান, ধেররা আবেদীয়া মোজাদ্দেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক কাজী হারুনুর রশিদের মাধ্যমে ঢাকায় এক নিঃসন্তান পরিবারের কাছে কন্যা শিশুকে বিক্রি করা হয়।

এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মহসীন ফারুক বাদল ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কোন শিশু সন্তান দত্তক দেওয়া হলে পৌরসভাকে অবহিত ও একটি ফরম পূরণ করতে হয়। কিন্তু পরিবারটি তা করেননি।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার (ওসি) ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, বিষয়টি জানা নেই। তবে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোমেনা আক্তার জানান, পৌরসভার প্যানেল মেয়রকে বিষয়টি দেখতে বলেছি। এছাড়াও ওসি সাহবের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি আমরা দেখছি।