কমলগঞ্জে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিনদিন নেমে যাচ্ছে। নলকূপগুলোতে আর পানি উঠছে না। ফলে উপজেলায় পানির সংকট তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রামপুর, নারায়ণক্ষেত্র, রায়নগর, রামচন্দ্রপুরসহ আশপাশের আরো কিছু এলাকায় গত ২০ দিন ধরে অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না। গ্রামের ৪০০ অগভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দূর-দূরান্তের বাড়িঘর থেকে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করছেন স্থানীয়রা। ব্যবহার্য পানির সংকট থেকেই যাচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার সময় জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খরার কারণে পুকুর, খালবিল, নদী-নালার পানি শুকিয়ে গেছে। ইতিপূর্বে কমলগঞ্জের অগভীর নলকূপে কখনো পানি না পাওয়ার কথা শোনা যায়নি। তাদের মতে, বিভিন্ন স্থানে গভীর নলকূপ স্থাপন করায় বর্তমানে অগভীর নলকূপে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়রা আরো জানান, ১৬০ ফুটের নলকূপে পানি উঠছে না। শুধু ৫০০-৬০০ ফুটের গভীর নলকূপে পানি পাওয়া যাচ্ছে।
নারায়ণক্ষেত্র গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহজাহান মিয়া, আইয়ুব আলী, আজিজুর রহমান, আব্দুল বাছিত খান, রামপুর গ্রামের শামীম মিয়া, রামচন্দ্রপুর গ্রামের রুশন মিয়া, বিনয় চক্রবর্তী বলেন, গত ১৫-২০ দিন ধরে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না। অনেক চাপাচাপি করেও পানি তোলা যাচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে খাওয়ার পানি নিয়ে। তাছাড়া গোসল ও বাথরুমের পানিরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
মুন্সীবাজার ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সুনীল মালাকার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইউনিয়নের রামপুর, নারায়ণক্ষেত্র, রায়নগর ও রামচন্দ্রপুর গ্রামের অধিকাংশ নলকূপে পানি উঠছে না। আমার বাড়ির নলকূপেও পানি না ওঠার কারণে দুই-এক দিন পরপর গোসল করতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এসব গ্রামের প্রায় ৪০০ নলকূপে পানি উঠছে না।
কমলগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সুজন সরকার বলেন, হয়তো পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এজন্য কয়েকটি স্থানে স্যালো ও হাতচাপা নলকূপে পানি উঠছে না। তিনি আরো বলেন, এরকম অভিযোগ উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে পাওয়া গেছে।