পশ্চিমের জেলাগুলোতে মুকুলে ঢেকে গেছে লিচুবাগান

পশ্চিমের জেলাগুলোতে লিচুবাগান ঢেকে গেছে মুকুলে। এতে বাগান মালিকরা ভালো ফলনের আশা করছেন। লিচু বর্তমানে এ অঞ্চলের অন্যতম অর্থকরী ফলের রূপ পেয়েছে। মানুষ বাণিজ্যিকভাবে নতুন নতুন বাগান তৈরি করছে। বাগানের সংখ্যা ও উৎপাদন বাড়ছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোরে ৭০৯ হেক্টরে, ঝিনাইদহে ৩২০ হেক্টরে, মাগুরায় ৬৩৯ হেক্টরে, কুষ্টিয়ায় ৩২২ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গায় ২২৫ হেক্টরে এবং মেহেরপুর জেলায় ৬৯০ হেক্টরে লিচুবাগান গড়ে উঠেছে। চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। বিক্রিতে সমস্যা হয় না। পাইকাররা এসে বাগান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যান। 

সরজমিনে দেখা গেছে, এবার প্রতিটি লিচু গাছ মুকুলে ঢেকে গেছে| মৌমাছিরা মুকুল থেকে মধু আহরণ করছে। মৌচাষিরা বাগানে মৌবাস্ক বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন। গত বছর লিচুগাছে কম মুকুল আসে। লিচুর উৎপাদনও কম হয়েছিল। এ অঞ্চলে আগের দিনে গৃহস্থরা নিজেদের প্রয়োজনে একটি বা দুটি লিচুগাছ বাড়িতে লাগাত। গাছগুলো ছিল দেশি, মান ভালো হতো না। বর্তমানে বোম্বাই, মুজাফ্ফরপুরি, চায়না-২ , চায়না-৩ ও চায়না-৪ এবং কদমী জাতের লিচু চাষ হচ্ছে। এসব জাতের লিচু আকারে বড় হয় এবং স্বাদও ভালো। 

ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুরের লিচুবাগান মালিক আতাউর রহমান বাবলু বলেন, এবার লিচুবাগান মুকুলে ঢেকে গেছে। গত বছর লিচুর ফলন ভালো হয় নাই। এবার ভালো ফলন হবে বলে চাষিরা আশা করছেন। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক হূদয়শ্বর দত্ত জানান, তিনি কুষ্টিয়া, মাগুরা ও যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরেছেন। লিচুগাছে ব্যাপক মুকুল ধরেছে। ভালো ফলনের জন্য বাগান মালিকদের গাছ পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।