পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার নিভৃত ভীমনলী গ্রামে ১৯৭১ সালের ২২ মে সংঘটিত হয়েছিলো প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান আর নিরাশ্রয় বাঙালিদের আশ্রয়দানের অপরাধে রাজাকারদের হামলা প্রতিহত করতে ১৫ জন মুক্তিকামী বীর বাঙালি রাজাকারের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন। স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরে সেই মুক্তিকামী ১৫ বীর বাঙালির গণ সমাধিস্থলে গড়ে উঠছে শহীদ স্মৃতি মিনার।
স্থানীয়রা বলছেন, মঠবাড়িয়া উপজেলা সদর থেকে ১৮ কিলোমিটার দুরে সাপলেজা ভীমনলী গ্রামে ১০ শতক জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে শহীদের স্মৃতি মিনার। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা বিরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস স্মৃতির মিনারের জন্য এ জমি দান করেন। এখানে গত দেড় বছর ধরে নির্মাণাধীন শহীদ স্মৃতি স্তম্ভটির নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়। মেসার্স রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্মৃতি স্তম্ভটি নির্মাণ কাজ করছেন।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নের নলীভীম গ্রামের নলী খালের পাড়ে ওয়াপদা বেড়ি বাঁধ লাগোয়া ৮০টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দুরের ওই গ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল বিপর্যস্ত। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আশ্রয়ের জন্য একটি নিভৃত জনপদ ছিল এ ভীমনলী গ্রাম। এ কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের সেখানে যাতায়াত গড়ে ওঠে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিতাড়িত হিন্দু বাঙালীরাও সেখানে প্রাণ ভয়ে আশ্রয় নেয়। এ কারণে স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের কাছে গ্রামটি টার্গেটে পরিণত হয়। পরে রাজাকাররা পরিকল্পিতভাবে ১৯৭১ সালের মে মাসে বাড়ই বাড়িতে আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধারাও সেদিন রাজাকারদের পাল্টা আক্রমণ করে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। সেদিনের সেই সম্মুখ যুদ্ধে রাজাকার লালু খাঁ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হন। আর রাজাকারদের গুলিতে শহীদ হন ১৫ জন মুক্তিকামী বীর বাঙালী।
এ ব্যাপারে উপজেলার ভীমনলী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, ভীমনলীর প্রতিরোধ যুদ্ধে ১৫জন সেদিন শহীদ হন। সেই গণ সমাধিস্থলে বর্তমান সরকারের শহীদ স্মৃতির মিনার নির্মাণে আমরা অত্যন্ত খুশী ।
প্রকল্পের সাইট ঠিকাদার মো. ইউনুস ফকির জানান, ১০ শতক জমিতে নির্মাণাধীন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হতে আরো দুই মাস সময় লাগবে। তবে স্মৃতি স্তম্ভে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণে আরো তিন শতক জমি প্রয়োজন। যা সরকারের অধিগ্রহণ ছাড়া সম্ভব হচ্ছেনা।
মঠবাড়িয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বাচ্চু মিয়া আকন বলেন, এ গৌরবোজ্জ্বল লড়াইটি আমাদের এলাকার ইতিহাসে অনন্য। শহীদের গণ সমাধিস্থলে গড়ে তোলা দৃষ্টিনন্দন স্মৃতির মিনার নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে।