সরফরাজের ফিটনেসে আপত্তি শোয়েব আখতারের

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রথম ম্যাচে বাজে পরাজয়ের জের ধরে সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাত উইকেটের হারের পর স্বয়ং অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের ফিটনেস নিয়েই প্রশ্ন তুললেন সাবেক ক্রিকেটার শোয়েব আখতার।

ম্যাচে পাকিস্তান করে মাত্র ১০৫ রান। এটা ১৯৯২ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭৪ রানে অলআউট হওয়ার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন স্কোর। পাকিস্তান এবার ২২ ওভারের বেশি ব্যাটিংই করতে পারেনি। ওশানে থমাসের চারটি ও অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের তিনটি উইকেট সরফরাজদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। পরে জবাব দিতে নেমে গেইলের হাফ সেঞ্চুরিতে মাত্র ১৩.৪ ওভারেই জিতে যায় ক্যারিবিয়ানরা।

এমন ম্যাচ শেষে এক ভিডিও বার্তায় অধিনায়ককে ধুয়ে দিতে পিছ পা হননি শোয়েব আখতার। রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস খ্যাত সাবেক এই ফাস্ট বোলার ৩২ বছর বয়সী সরফরাজকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি এই ম্যাচে সরফরাজকে দেখলাম। ফিটনেসের কী বাজে দশা! বিশেষ করে টসের সময় দেখলাম সরফরাজ বিশাল ভুঁড়ি নিয়ে এসেছে। এর বাদে গালগুলাও অনেক ফোলা দেখলাম!’

শোয়েবের দাবি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাকিস্তানের এমন ‘আনফিট’ অধিনায়ক আগে কখনো দেখেননি শোয়েব। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে এর আগে কখনো বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন আনফিট পাকিস্তানি অধিনায়ক আগে কখনো দেখিনি। মাঠে তো ওর নড়তে চড়তেও কষ্ট হচ্ছিল। ওর ব্যাটিং আহামরি নয়, উইকেটরক্ষকের বেশে যে ভূমিকাটা পালন করে সেটাও যুত্সই নয়।’

পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের এমন বাজেভাবে আত্মসমর্পণে ক্ষুব্ধ শোয়েব। তিনি বলেন, ‘এটা আমাকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। এমন ব্যাটিং মেনে নেওয়া যায় না।’

বিশ্বকাপ দলে অনেক জল ঘোলা করে পেসার মোহাম্মদ আমিরকে রেখেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রথম ম্যাচে তিনি অবশ্য সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের যে তিনটা উইকেটের পতন ঘটেছে, সবগুলোই পেয়েছেন বাঁ-হাতি এই পেসার। শোয়েব তাই আমিরের প্রশংসাই করলেন।

বললেন, ‘আমির নিজে চেষ্টার কোনো কমতি করেনি। সে নিজের কাজটা ঠিকমতো করেছে। আশা করি, সামনের ম্যাচগুলোতে সে সতীর্থদের সহায়তা পাবে।’ যদিও, ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ দল বলেই একটি ম্যাচ দিয়ে পাকিস্তানের সক্ষমতা বিচার করা ঠিক হবে না। ১৯৯২ বিশ্বকাপে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ১০ উইকেটে হেরেছিল ইমরান খানের দল। যদিও, শেষ অবধি সেবার শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তানই।

এরপর সর্বশেষ ২০১৭ সালে এই ইংল্যান্ডের মাটিতেই ভারতের বিপক্ষে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু করেছিল সরফরাজরা। যদিও, ফাইনালে সেই ভারতকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে তারা। এবারো তেমন কিছু একটাই হবে, নাকি ক্রমাগত বাজেভাবে হেরেই চলবে এশিয়ান দেশটি?  — এই প্রশ্নের জবাবের জন্য সময়ের অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’