বিশ্বজুড়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে। 

নয়াদিল্লি

ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান দিবসটির কর্মসূচি শুরু করেন। 

পরে দূতাবাস কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হাইকমিশনার। এ সময় তার সঙ্গে দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ বিমান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) আলাদাভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

পরে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দূতাবাসের ‘বঙ্গবন্ধু হল’ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান।

মোহাম্মদ ইমরান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে ও আপোষহীন সংগ্রামের ফল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে রয়েছে বঙ্গবন্ধু।

এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন দূতাবাসের মিনিস্টার (প্রেস) শাবান মাহমুদ। অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

চীন

চীনের কুনমিংয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল-এ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ মার্চ) কনসাল জেনারেল এ এফ এম আমিনুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটি সূচনা করেন। 

এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।  

কুনমিংয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল-এ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন।

এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালি জাতির বহুকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করে। 

অনুষ্ঠানে প্রথম সচিব (উপসচিব) মো. বজলুর রশীদের পরিচালনায়  কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।   

ভিয়েতনাম

ভিয়েতনামের হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ মার্চ) দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিজ সামিনা নাজ জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। 

পরে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা, আলোচনাসভা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। এতে ভিয়েতনামের সিনিয়র ডেপুটি ফরেন মিনিস্টার নুয়েন মিন ভু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভিয়েতনাম ইউনিয়ন অফ ফ্রেন্ডশিপ অর্গানাইজেশন-এর প্রেসিডেন্ট নুয়েন ফুওং না। এছাড়া ভিয়েতনাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল মিস ট্রিন টামসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। 

হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ভারত ও সৌদি আরবের ডেপুটি চিফ অফ মিশন, পাকিস্তান ও মিশরের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক কোর-এর সদস্যরা, প্রবাসী বাংলাদেশিরা, ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও অন্যান্য সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। 

প্রধান অতিথি সিনিয়র ডেপুটি মিনিস্টার নুয়েন মিন ভু তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আজকের নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। তিনি তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। 

সৌদি আরব

সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে বিভিন্ন কর্মসুচীর মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আজ সকালে দূতাবাস চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম(বার)। এরপর দূতাবাসে স্থাপিত অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে  ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রদূত। এসময় দূতাবাসের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রিয়াদের বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন এ সময় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সকালে দুতবাসে স্থাপিত অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী

সিঙ্গাপুর

যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য আর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বাংলাদেশের ৫১তম মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। সকালে চ্যান্সারীতে জাতীয় সংগীতের মূর্ছনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু করেন মান্যবর হাইকমিশনার জনাব মো. তৌহিদুল ইসলাম, এনডিসি। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে প্রদত্ত বাণীসমূহ এসময়ে পড়ে শোনানো হয়। সকালের এই আয়োজনে পরিবেশিত হয় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত বিশেষ ডকুমেন্টারি।  আলোচনা অংশে বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।

ইতালি
ইতালির রোমে যথাযথ মর্যাদার সাথে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫১ তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। এই বিশেষ দিনে দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন, বাণী পাঠ, প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন, রাষ্ট্রদূত কর্তৃক স্বাগত বক্তব্য প্রদান, দেশি ও বিদেশি আলোচকদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা এবং শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দোয়া ও মোনাজাত।

ইতালির রোমে যথাযথ মর্যাদার সাথে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫১ তম বার্ষিকী উদযাপন

জাপান
যথাযথ মর্যাদা ও  ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে জাপানের টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। সকালে অনুষ্ঠানের শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গনে দূতাবাসের কর্মকর্তা –কর্মচারীদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ। পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সাথে সাথে রাষ্ট্রদূত কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।  

পরে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামীতে দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। পরে আলোচনা পর্বের প্রারম্ভে মান্যবর রাষ্টদূত দিবসটির তাৎপর্য ও গুরু্ত্ব উল্লেখপূর্বক বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এসময় তাঁরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ভিশন-২০৪১’ বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।  

যথাযথ মর্যাদা ও  ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে জাপানের টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।

এছাড়া মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে জাপানের স্থানীয় ইংরেজি ও জাপানিজ পত্রিকায় আজ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাণী রয়েছে । উল্লেখ্য, দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে আগামী ২৮ মার্চ ২০২২ দুপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে এক সংবর্ধনা ও মধ্যাহ্নে ভোজের আয়োজন করা হয়। জাপানের মন্ত্রীসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, টোকিওস্হ বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিগণ, জাপানের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং জাপান প্রবাসী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী নাগরিক এই অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। 

ইরাক 
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৫২তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। শনিবার দিবসের প্রথমভাগে দূতাবাস প্রাঙ্গণে মিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ইরাকে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ফজলুল বারী। 

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৫২তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

সন্ধ্যায় বাগদাদের আল-মানসুর হোটেলে ইরাকে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি, মন্ত্রী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ি, সরকারি-বেসরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রবাসীদের জন্য জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া বিভাগের মহাপরিচালক হায়দার রাধি নাসের। রাষ্ট্রদূত মো. ফজলুল বারী তাঁর বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান ।

মায়ামী

২৬ মার্চ ২০২২ তারিখে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মায়ামী-এ যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২২ উদ্‌যাপনকরা হয়। নবস্থাপিত কনস্যুলেট জেনারেল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কনস্যুলেটের সকল কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং মায়ামীতে অবস্থানরত বীর মুক্তিযোদ্ধা,প্রবাসী বাংলাদেশী ও স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কনসাল জেনারেল কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর কনসাল জেনারেল ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তাবৃন্দ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, ফ্লোরিডাস্থ বিভিন্ন সংগঠন এবংপ্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকেও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।স্বাধীনতাযুদ্ধের সকল বীর শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। পরবর্তীতে স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রাক্বালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

মায়ামীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২২ উদ্‌যাপন

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁদের স্মৃতিচারণ করেন এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে কনসাল জেনারেল ইকবাল আহমেদ তাঁর বক্তব্যে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সশ্রদ্ধচিত্তে লাখো শহিদও নির্যাতিতা বীরাঙ্গনাদের চূড়ান্ত আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। যার যার অবস্থান থেকে বিদেশীদের কাছে আমাদের লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরতে প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে কনসাল জেনারেল উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।  

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণে একটি সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত সকলকে আপ্যায়নের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২২ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। 

লস এঞ্জেলেস

লস এঞ্জেলেসস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে কনস্যুলেটের বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে।

লস এঞ্জেলেসে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

বীর মুক্তিযোদ্ধা, কমিউনিটির সদস্য এবং কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে কনসাল জেনারেল কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস অনুষ্ঠানের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। অতঃপর চ্যান্সেরীর বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুস্পস্তবক অর্পণ করে সম্মান জানানো হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করার পর জাতির পিতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী’র বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়াও মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্যের উপর বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।  

ক্যানবেরা
বাংলাদেশি পতাকার রঙে আলোক সজ্জায় অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় উদযাপিত হলো স্বাধীনতা দিবস এবং বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর। ক্যানবেরায় আসপেন আইল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাশনাল ক্যারিলিয়নেও ২৭ মার্চ রাত ৮ টায় এ আলোক সজ্জার প্রদর্শনী শুরু হয় । এসময় অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি ও হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এ আলোক সজ্জা ২৮ মার্চ ভোর ৫টা পর্যন্ত প্রদর্শন করা হবে।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ক্যানবেরায় বাংলাদেশি পতাকার রঙে আলোক সজ্জা

এছাড়া বাংলাদেশের ৫১তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ হাইকমিশন ক্যানবেরায় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতা, চিফ অব প্রটোকলসহ পররাষ্ট্র ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ এবং অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

কুয়েত

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস ৫১ তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের অভ্যর্থনা ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েতের গণপূর্ত মন্ত্রী এবং যুব বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আলী হোসেন আলী আল মুসা। বাংলাদেশ ও কুয়েতের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কুয়েত নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ আশিকুজ্জামান প্রধান অতিথিকে সাথে নিয়ে দিবসটি উপলক্ষে কেক কাটেন। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. আশিকুজ্জামান, তার স্ত্রী নাহিদ নিয়াজ শিলু ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা অতিথিদের স্বাগত জানান। বৃহস্পতিবার ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় ক্রাউন প্লাজায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান নিয়াজ মোরশেদ।

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত