নেত্রকোনার অর্থনৈতিক অঞ্চল

ভিত্তি স্থাপনের সাড়ে ৪ বছরেও অগ্রগতি নেই

নেত্রকোনার অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে ২০১৬ সালে প্রকল্প চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে এই ‘মেগা প্রকল্প ইকোনমিক জোন’- এর ভিত্তি স্থাপন করেন। এর পর সাড়ে চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এ প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে তা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

অথচ প্রকল্প এলাকাও চিহ্নিত করা হয়েছে। বরাদ্দ করা হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার কাশিপুর, ভদ্রপাড়া ও বর্ণি এলাকার ৫০০ একর জমিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল হওয়ার কথা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়ও প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে।

সর্বশেষ জানা গেছে, পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি এ প্রকল্প নিয়ে কয়েকটি সভা করেছে। এটি চলতি অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দবিহীন প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু মার্চ মাস শেষ হওয়ার দিকে গেলে প্রকল্প শুরু হওয়ার লক্ষণ নেই। আরো জানা যায়, প্রকল্পে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। প্রকল্প ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশ খরচ হবে জমি কেনা ও উন্নয়নে। ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণে ৩৫৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। যা মোট অনুমিত ব্যয়ের ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ভূমি উন্নয়নে ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি টাকা। যা মোট ব্যয়ের প্রায় ১১ শতাংশ।

নেত্রকোনা জেলা চেম্বারের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, দেশের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার এ ধরনের অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। নেত্রকোনা জেলাকেও এই জন্য বেছে নেওয়া হয়। অর্থনৈতিক অঞ্চলটি স্থাপন হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। এতে ঐ এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। মানুষের কর্মসংস্হান ও আয় বাড়বে। এ প্রসঙ্গে নেত্রকোনা চেম্বারস অব কমার্সের সহসভাপতি এ আর খান পাঠান সাকি বলেন, প্রকল্পটি আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্হান যেমন হবে তেমনি অর্থর্নৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রমও বাড়বে। এ প্রসঙ্গে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান বলেন, প্রকল্পটির কাজ শুরুর জন্য ব্যবস্হা নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা হবে। বেজা কতৃ‌র্পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।