যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে ইতালির মিলান শহরে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল মিলান ৫১তম মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে। ২৬মার্চ বিকালে ইতালির মিলানে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এইচ এম জাবেদ ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে সমস্বরে জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে দিনের কর্মসূচী শুরু করা হয়। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভায় বাংলাদেশি রাজনৈতিক, সামাজিকও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন তাঁরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাঁরা বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে প্রথমে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. চৌধুরী শহীদ কাদের। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহিদের সংখ্যা নিয়ে যে বিতর্ক করা হয় তা নেহাৎ বাতুলতা মাত্র। গবেষণায় দেখা গেছে এ সংখ্যাটি প্রকৃত অর্থে আরো অনেক বেশী। তিনি ১৯৭১ সালের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে প্রবাসীদের ভূমিকা রাখার আহবান জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের আরেক সহযোগী অধ্যাপক ড. মুরশিদা বিনতে রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে জাতিকে অভ্রান্তভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ধীরে ধীরে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন যেন কোনভাবেই একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত না হয় সেজন্য তিনি সজাগ ও সতর্ক ছিলেন এবং সেভাবেই সংগ্রামের পটভূমি রচনা করছেন।
জনাব সাজ্জাদ আলী জহির (বীর প্রতীক) বলেন, বাঙালী বরাবরই বীরের জাতি, পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী বাঙালীদের নানাভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে। কিন্তু ইতিহাস স্বাক্ষী,এই বাঙালীদের কাছেই তারা লজ্জাজনকভাবে আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস চর্চ্চার আহবান জানান। প্রবাসী বাংলাদেশীদের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যার ব্যাপারে বহির্বিশ্বে জনমত গড়ে তোলার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী জনাব মোঃ শাহাব উদ্দীন, এম.পি. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি তাঁর যৌবনের বেশীরভাগ সময় কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। কিন্তু তিনি স্থির লক্ষ্যে নিজের জীবন বাজী রেখে সারাজীবন বাঙালী জাতির মুক্তির কথা চিন্তা করেছেন এবং জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের দিকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। মাথাপিছু আয়ের বিপুল বৃদ্ধি, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, পদ্মা সেতু প্রকল্পসহ অসংখ্য উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
সবশেষে তিনি দেশের উন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য প্রবাসীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।