বাংলাদেশের মধ্যে সুস্বাদু কলার জন্য বিখ্যাত নরসিংদী জেলা। সাগর, অমৃত সাগর, চাম্পা বা চিনি চাম্পা, হোমাই অর্থাৎ সমাই, গেরাসুন্দর ও শবরী কলাসহ প্রায় ১০ প্রকার কলার চাষ করা হয় নরসিংদীতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কলার চাষ করা হয়, নরসিংদী সদরের শিলমান্দী ইউনিয়নের শিলমান্দী, উত্তর শিলমানন্দী, মধ্যশিলমান্দী, দক্ষিণ শিলমান্দী, পাঁচদোনা ইউনিয়নের চরড়াপা গ্রামে। এছাড়াও পলাশ উপজেলার বরাব, রাবান, কুড়াইতলি, জিনারদী এলাকায় প্রচুর কলা চাষ করা হয়।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ফল বা ফসলের মধ্যে, গম, ধান ও ভুট্টার পরেই কলার স্থান। দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে দিন দিন কলার চাহিদা বাড়ায়, বেড়ে চলেছে কলার উৎপাদন। রফতানির তালিকায় ২০১২ সালে যুক্ত হয় নতুন পণ্য কলা। সেই বছর বাংলাদেশ ২০ হাজার কেজি সাগর কলা পোল্যান্ডে রফতানি করেছে। যার রফতানি মূল্য ৭ হাজার ২৫৫ ইউ এস ডলার। রফতানিতে নরসিংদীর সাগর কলা নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বাংলাদেশের সামনে।
দক্ষিণশিলমান্দী গ্রামের কলা চাষি রফিকুল ইসলাম রিটন, মো. মামুন মিয়া, আব্দুল কুদ্দুছ, উত্তর শিলমান্দী গ্রামের নূর মোহাম্মদ, মো. বিকচান মিয়া, শিলমান্দী গ্রামে ফজলু মিয়া, পলাশ উপজেলার বাড়ারচর গ্রামের মোশাররফ হোসেন পাঠান জানান, কলাচাষের ব্যাপারে সরকারিভাবে কোনো সাহায্য করা হয়না। আমরা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কলা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে দীর্ঘ দিনযাবৎ কলা চাষ করে আসছি। এক একর জমিতে কলা চাষে দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয় এবং এতে সাড়ে ৪ লাখ টাকা বিক্রি করা যায়।
বিভিন্ন রোগের কারণে এবং এক জমিতে বার বার কলা চাষের ফলে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়ার ফলে কলা উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।
নরসিংদী জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইদুর রহমান এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতাউর রহমান ও মো. কাউসার আলম জানান, এবছর নরসিংদী জেলায় মোট ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৭শত হেক্টরে সাগরকলা, ৩৫০ হেক্টরে চাম্পা কলা, ১৭০ হেক্টরে সপরী কলা এবং ৪০ হেক্টর জমিতে গেরা কলা চাষ করা হয়েছে। বাকি ৪০ হেক্টর জমিতে অন্যান্য জাতের কলা চাষ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নরসিংদী জেলা শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ার কারণে অনেকেই জায়গা জমি বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। জমি হ্রাস পাওয়ার কারণে নরসিংদীতে কলা চাষ দিন দিন কমে আসছে।