বগুড়াসহ তিন জেলায় ২ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঙ্গালী নদীর ২১৭ কিলোমিটার খনন ও তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। এর মধ্যে বগুড়া অংশে ৯৯ কিলোমিটার বাঙ্গালী নদীর খননকাজের ৫০ ভাগ শেষ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের আশা, নদী খননের ফলে কৃষকরা সারা বছর সেচসুবিধা পাবেন। নদীতে পানি থাকবে এবং দেশি মাছ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। আবারও প্রাণ ফিরবে নদীতে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বগুড়া, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত একসময়ের খরস্রোতা বাঙ্গালী নদীর ১৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী কালের বিবর্তনে ভরাট হয়ে গেছে। এই নদীতে নাব্য ফিরিয়ে আনতে খননের উদ্যোগ নেয় সরকার। খনন প্রকল্পের আওতায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে বগুড়া হয়ে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী এলাকায় ২১৭ কিলোমিটার নদী খনন করতে হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ড্রেজিং কাজে ব্যয় ১ হাজার ৮০০ কোটি ও অবশিষ্ট টাকা ব্যয় হবে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে। এরই মধ্যে বগুড়ার শেরপুর থেকে সোনাতলা পর্যন্ত ৯৯ কিলোমিটার বাঙ্গালী নদী খননের কাজ শুরু হয়েছে। বগুড়ার ৯৯ কিলোমিটার নদী খনন ও তীর সংরক্ষণ করতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি গ্রুপে সিসি ব্লকের কাজ চলছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নদী খননে ঐ তিন জেলায় রয়েছে দেড় শতাধিক ড্রেজিং মেশিন। দিন-রাতে নদী খনন ও সিসি ব্লকের কাজ চলছে।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পোড়াপাইকর সলুরঘাট এলাকায় সাউদান ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের বেলিফুল-১ ড্রেজিং মেশিন দিয়ে নদীর খননকাজ চলছে। সেখানে মেশিনচালকসহ ২৭ জন শ্রমিক কাজ করছেন।
ড্রেজিং মেশিনচালক মিজানুর রহমান বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে গাইবান্ধা পর্যন্ত বাঙ্গালী নদীতে দেড় শতাধিক ড্রেজিং মেশিন দিয়ে খননকাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নদী খননের কাজ শেষ হবে। এরপর তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু হবে। সোনাতলার পোড়াপাইকর গ্রামের লুত্ফর রহমান জানান, একসময়ের খরস্রোতা বাঙ্গালী নদীতে ৩০-৩৫ ফুট গভীর পানি ছিল। বর্তমানে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। সেখানে কৃষকরা বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করছেন। নদীতে পানি না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের শীতকালীন ও রবি ফসল চাষাবাদ করতে শ্যালোচালিত মেশিনের সেচের ওপর নির্ভর করতে হয়। খননকাজ শেষ হলে বাঙ্গালী নদীতে আবারও পানি পাওয়া যাবে। তখন কৃষকের চাষাবাদে সেচ, মাছ চাষ ও গ্রামবাসী চাহিদামতো পানি ব্যবহার করতে পারবেন।
সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ আহমেদ বলেন, বাঙালি নদী খননের ফলে সারাবছর পানির প্রবাহ থাকবে। শীতকালীন ও রবি মৌসুমে কৃষকরা স্বল্পখরচে সেচ সুবিধা পাবেন। নদী প্রাণ ফিরে পাবে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে। এর মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের জুনে। আরো আগে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এলাকাভেদে পাঁচ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত নদী খনন করা হচ্ছে। এতে নদীতে আগের মতো পানির প্রবাহ বাড়বে।