চট্টগ্রামে ঈদের কেনাকাটা চলছে দিনরাত

ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। জ্যৈষ্ঠের দাবদাহ উপেক্ষা করে তীব্র গরমের মধ্যেও কেনাকাটায় ব্যস্ত চট্টগ্রাম নগরবাসী। দিনরাত চলছে কেনাকাটা, ক্রেতাবিক্রেতায় জমজমাট চট্টগ্রামের ঈদের বাজার। দিনের বেলার পাশাপাশি ঈদের কেনাকাটা চলছে রাতের বেলায়ও। এই রাতের বাজারে বরং ক্রেতা সমাগম বেশি। সন্ধ্যায় রেস্তোরাঁয় রেস্তোরাঁয় ভিড় বাড়ে কেনাকাটা করতে আসা মানুষের। অনেকে আবার এসব বাহারি রেস্তোরাঁয় ইফতার করে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ঈদের কেনাকাটায়। ২০ রমজানের পর থেকেই নগরীর অভিজাত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিপণি কেন্দ্র, শপিংমল থেকে শুরু করে রাস্তার পাশের ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান সব জায়গায় ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়।

এদিকে যারা ঈদে চট্টগ্রাম ছাড়বেন তারাও সপরিবারেই আসছেন ঈদ বাজারে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায়। নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, তার পাশে তামাকুমন্ডি লেইন, বিএম সুপার মার্কেটসহ অন্যান্য বিপণি কেন্দ্র, ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম নিউমার্কেট, জহুর পৌর হকার্স মার্কেট, টেরি বাজারের বিস্তীর্ণ সড়ক পার্শ্বস্থ মার্কেটসমূহ, আন্দরকিল্লায় হাল আমলে গড়ে ওঠা ৪/৫টি ছোট-বড়    বিপণি কেন্দ্র, স্টেশন রোডের উত্তর পাশে রেয়াজউদ্দিন বাজারকে ঘিরে গড়ে ঊঠা নতুন পুরনো একই ধরনের প্রায় ১০/১২ বিপণি কেন্দ্র সর্বত্রই মানুষের ভিড়। ঈদের বাজারে, পোশাক, জুতো, প্রসাধনী, পারফিউম, নানা ধরনের অলংকারের কেনাবেচা বেশি হচ্ছে বলে জানালেন চট্টগ্রাম নিউ মার্কেটের একটি ব্যস্ততম ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক আকরাম উদ্দিন। এখানে কেনাকাটা করতে আসা গৃহবধূ তামান্না আলম জানালেন কেনাকাটা শেষ, মেয়ের জন্য একটি ফরাসী পারফিউম কিনেছেন।

ব্র্যান্ডের পোশাক-আশাকের জন্য কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিং মলগুলোতেও একই দৃশ্য। এরকম ব্যস্ততম নগরীর কয়েকটি শপিং মল হচ্ছে, ইউনুস্কো সিটি সেন্টার, ষোলশহর শপিং কমপ্লেক্স, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, সেন্ট্রাল প্লাজা, ফিনলে স্কয়ার, আমিন সেন্টার, ভিআইপি টাওয়ার, সানমার ওশান সিটি, আগ্রাবাদে আখতারুজ্জমান সেন্টার, সিঙ্গাপুর মার্কেট, ব্যাংকক মার্কেট, আগ্রাবাদ চৌমুহনী কর্ণফুলী সুপার মার্কেট, পতেঙ্গা ইপিজেড গেইট সংলগ্ন বে সুপার মার্কেটগুলোতেও কেনাকাটার ধুম লেগেছে।

বিউটি পার্লার এবং বিভিন্ন ধরনের বুটিক-বাটিক হাউসগুলোর কর্মীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার ঈদ বাজারে নারীদের কাছে বেশি চাহিদা শাড়ির। কিশোরী-তরুণীরা বেশি কিনছেন হাল ফ্যাশনের গাউন, সারারা এবং গারারা। আর সনাতনী পোশাকের মধ্যে মাধুরীর মোহিনী হাসি মেশানো লেহেঙ্গা এখনো চাহিদার তুঙ্গে বলে জানালেন ইউনুস্কো সিটি সেন্টারের বিক্রেতা আদিল আহমেদ এবং গুলজার মার্কেটের লাটসাহেব বিতানের স্বত্বাধিকারী মঞ্জু।

ঈদের কেনাকাটার একেবারে শেষ ধাপে সবাই ছুটছেন জুতার দোকানগুলোতে। পোশাকের সঙ্গে মানানসহ জুতা কিনতে ঘুরছেন দোকানে দোকানে। দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে অভিনব এবং হালফ্যাশনের রকমারি জুতো স্যান্ডেল। ক্রেতাদের অভিমত, দাম তুলনামূলকভাবে অন্যান্য বছরের চেয়ে একটু বেশি।