নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ভারতের অর্থনীতিতে ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে। যাতে করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হয়। এর মধ্যে থাকবে শ্রম আইনের সংস্কার, বেসরকারি শিল্পের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন শিল্পের জন্য ভূমি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা। ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, মোদি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই এমন কিছু কাজ হবে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের খুশি হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ‘পিএম-কিষান’ প্রকল্পকে সমস্ত কৃষকদের জন্য সম্প্রসারিত করা হয়েছে। দরিদ্র কৃষকদের তিনটি কিস্তিতে বছরে ৬ হাজার রুপি করে দেওয়া হবে। এই নতুন পদক্ষেপের ফলে সাড়ে ১৪ কোটি কৃষক লাভবান হবেন। মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই পেনশন প্রকল্প ব্যবসায়ীদের জন্যও। তিন কোটি ব্যবসায়ী এবং দোকানদার এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। সংশোধিত এই প্রকল্প বাবদ ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৮৭ হাজার কোটি রুপি খরচ হবে। বিগত সরকার এই প্রকল্পে প্রাথমিক সংস্করণে বার্ষিক ৭৫ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ করেছিল।
এর পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় আরো একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে যার নাম প্রধানমন্ত্রী কিষান পেনশন যোজনা। এই প্রকল্প একটি স্বেচ্ছাধীন এবং অংশদানকারী পেনশনের প্রকল্প, যা থেকে সারা দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক সীমান্তে থাকা কৃষকেরা লাভবান হতে পারবেন। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার বৈঠকের পরে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ওই পেনশন ফান্ডে কৃষকদের দেয় পরিমাণের সমপরিমাণ টাকা দেবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইটে বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বিপুল জয় পেয়েছে। খুব শিগগিরই মোদি সরকার শ্রম আইন সংস্কারে লোকসভায় নতুন একটি বিল উত্থাপন করবে। ওই বিলে শ্রম আইনের ৪৪টি ধারাকে মূল চারটি ক্যাটেগরিতে আনার প্রস্তাব দেওয়া হবে। সেই ক্যাটেগরিগুলো হলো, বেতন, শিল্প সম্পর্ক, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ। চতুর্থ ক্যাটেগরিটি হলো, পেশাগত নিরাপত্তা, কর্মী-স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ। যাতে করে কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বিরোধ এড়াতে সমর্থ হয়। সরকার ভূমি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রচুর পরিমাণে সরকারি জমি প্রদানের প্রস্তাব করা হতে পারে। যা নিঃসন্দেহে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট করবে।
এদিকে মোদির নতুন সরকারের প্রথম দিনেই ‘দ্রুততম প্রবৃদ্ধির দেশে’র খেতাব হারিয়েছে ভারত। এপ্রিল ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। আর জানুয়ারি-মার্চের ত্রৈমাসিক প্রবৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে। এ পরিস্থিতিতে সরকার রাষ্ট্রীয় ব্যাংক খাতে সংস্কার আনবে এবং অবকাঠামো খাতে ব্যয় বাড়াবে। এক কর্মকর্তা জানান, আগামী ১০০ দিনে বড় সংস্কার হবে।