নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ভারতের নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. রাজ কুমার রঞ্জন সিং। বিশেষ অতিথি ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের অপর প্রতিমন্ত্রী মিনাক্ষী লেখি। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দূতাবাসের হাইকমিশনার, রাষ্ট্রদূতসহ দেড় শতাধিক কূটনীতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 

এছাড়া অনুষ্ঠানে একাধিক সাংসদ, রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএসএফ-এর মহাপরিচালক, সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দলের বাদ্যযন্ত্রের সুরের মূর্ছনায় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা শুরু হয়। এর আগে দূতাবাসের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান ও তার স্ত্রী জাকারিয়া হাসনাত ইমরান আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানান। 

বক্তব্য রাখছেন ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. রাজ কুমার রঞ্জন সিং। ছবি: নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন

শ্রী রাজ কুমার সিং বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে প্রাণের সম্পর্ক গড়ে তোলে। স্বাধীনতার ৫১ বছরে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন এক সোনালি অধ্যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল বাংলাদেশরই মহানায়ক ছিলেন না, তিনি ভারতের মানুষের কাছেও মহানায়ক হিসেবে শ্রদ্ধেয়।

৫১ বছরের বন্ধুত্ব সম্পর্ক বর্তমান সময়কে সোনালি অধ্যায় বলে অভিহিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক বন্ধুত্বের মধ্য দিয়েই আমরা দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক ইস্যুতেও কাজ করে যাচ্ছি।

হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের তৎকালীন সরকার এবং ভারতের মানুষের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সেদিন ভারত আমাদের পাশে না দাঁড়ালে মাত্র ৯ মাসে হয়তো আমাদের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হতো না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছেন। 

বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ দূতাবাসের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান। ছবি: নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন

হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো দূরদর্শী ও মহান নেতার কারণেই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছিলো। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে ৩ বছরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশ ও জাতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দেন। 

বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার।