ঈশ্বরদীর নির্লোভ কলেজ ছাত্র আরোজ

ভোরের পাতার ঈশ্বরদীর সাংবাদিক ময়নুল ইসলাম মিন্টুর হারিয়ে যাওয়া মানিব্যাগ ফেরত দিলেন নির্লোভ কলেজ ছাত্র আরোজ মালিথা।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের দ্বাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আরোজ। তিনি প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অটোরিকশার মধ্যে একটি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পান। মানিব্যাগটি পেয়ে তিনি খুলে দ্যাখেন নগদ ১৯ হাজার টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। প্রাইভেট শিক্ষককে তিনি বিষয়টি জানালে শিক্ষক ব্যাগের মধ্যে ভোরের পাতা পত্রিকার পরিচয়পত্র দেখতে পান। 

শিক্ষক কানু বাবু বিষয়টি ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব সভাপতিকে অবহিত করলে তিনি ওই ছাত্রকে তার কাছে ডেকে নেন। সভাপতি স্বপন কুন্ডু মানিব্যাগ হারানো মিন্টুকেও খবর দেন। মিন্টু এলে আরোজ নিজ হাতে টাকাসহ মানিব্যাগটি ফেরত দেন। 

সাংবাদিক মিন্টুসহ ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা আরোজ মালিথার সততায় মুগ্ধ। আর এই ছেলের সততায় গর্বিত হয়েছেন তার পিতা ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা মুরাদ মালিথা। 

ময়নুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘তার মানিব্যাগে নগদ ১৯ হাজার টাকা, ট্রেনের কয়েকটি টিকিট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিলো। ঈদের আগে টাকা হারিয়ে যাওয়ায় চোখে অন্ধকার দেখছিলাম। কিভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ পার করবো। এতোগুলো টাকা পেয়ে কেউ যে ফিরিয়ে দেবে এটা বিশ্বাসই হচ্ছে না।’

আরোজ মালিথার সততায় মুগ্ধ হয়ে মিনটু তার প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘দোয়া করি আরোজ যেন এই পৃথিবীতে আলোকিত মানুষ হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।’ 

কলেজ ছাত্র আরোজ মালিথা বলেন, ‘অন্যের টাকার প্রতি তার কোন লোভ নেই। সমাজে অনেক শ্রেণির মানুষ আছে। কে কি অবস্থায়, কি কাজের জন্য এবং কিভাবে টাকাগুলো যোগাড় করছেন তা জানি না। তবে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মালিকের হাতে তুলে দিতে পেরে আমার ভীষণ ভাল লাগছে।’

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

আরোজের বাবা মুরাদ মালিথা বলেন, এর আগে আরোজ ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদকে বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় হতে সম্মাননার এক ভরি ওজনের সোনার নৌকাও কুড়িয়ে পেয়ে ফিরিয়ে দেন। ছেলের ধারাবাহিক সততায় সত্যিই আমি এবং পরিবারের সবাই মুগ্ধ ও গর্বিত।’

ইত্তেফাক/নূহু